বিনিয়োগ ও রাজস্ব আয়ের দুর্বলতা কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনের গতি কমাসহ চলতি অর্থবছর বাংলাদেশ ৩ দশমিক ৯ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ে এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। সরকারি বিভিন্ন সেবা সংস্থার সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের তাগিদ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
চলতি অর্থবছরও সাড়ে ৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতির বিপরীতে মজুরি সেভাবে বাড়েনি। এতে কমেছে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। তার আগে তিন বছরে প্রায় ৩ শতাংশ দারিদ্র্য বেড়েছে। গত বছর দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেড়েছে ১৪ লাখ। চলতি বছর মাত্র ৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার বাইরে আসবে। বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।
ঊর্ধ্বমুখী প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ও বিনিময় হারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়েছে। তবে এখনো বিদেশি বিনিয়োগ ও রপ্তানি ঝুঁকিতে আছে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।
বাংলাদেশ ও ভুটানে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেন, ‘চড়া মূল্যস্ফীতির সময় বিনিয়োগ কমায় কর্মসংস্থান ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়ে গেছে। শ্রমে নারীর অংশগ্রহণও কমেছে। কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশে নামায় জরুরি খাতেও সরকারের খরচ করার সক্ষমতা কম। মানুষের আয় কমলেও জীবনযাপনের ব্যয় বেড়েছে।’
বিশ্বব্যাংক বলছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রবৃদ্ধিতে। তাদের মতে, সামষ্টিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে নতুন সরকারের সংস্কার নীতি বিনিয়োগের গতিপথ ঠিক করবে।
বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ইকোনমিস্ট ধ্রুব শর্মা বলেন, ‘তিন বছর ধরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমছে। চলতি অর্থবছর যা ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নামতে পারে, যা জানুয়ারিতে দেওয়া পূর্বাভাসের চেয়ে বেশ কম। বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ৩৫ বছরের মধ্যে কম। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান গতিশীল করতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কার এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে হবে।’
প্রতিবেদনে উঠে আসে, বাংলাদেশের ৮৫ শতাংশ শ্রমিক অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত। ছোট ও মাঝারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি সেবাসংস্থার খরচের চাপে রয়েছে।
বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, দক্ষিণ এশিয়ায় চলতি অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি গতবারের চেয়ে দশমিক ৭ শতাংশ কমে এবার ৬ দশমিক ৩ শতাংশে নামতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের প্রভাব পড়ছে প্রবৃদ্ধিতে।