মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেও অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ছুটির দিনে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ সংসদ অধিবেশনে এ কথা জানান আমির খসরু।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দশ দিনের মাথায় শুরু হওয়া এই সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল ও বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সময়কালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও এলএনজি খাতে নির্ধারিত ভর্তুকির অতিরিক্ত প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।
তিনি জানান, এতে একদিকে সরকারের বাজেট ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত আমদানি ব্যয় মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও চাপ বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সময়মতো ভর্তুকি ছাড় করা।
মন্ত্রী জানান, বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার সংকট সামাল দিতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বাজেট সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আমদানিনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক পরিস্থিতির বাইরে নয়। তবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় আপাতত জ্বালানির মূল্য বাড়ানো হয়নি।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট ঘিরে জনগণের ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে, যা পূরণে সরকার সচেষ্ট থাকবে।