সম্প্রতি দেশে সহিংসতা, মব সন্ত্রাস এবং প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের ঘটনা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত। রোববার (১২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর শামীম রেজাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা, রাজধানীর শাহবাগে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের ওপর সমকামিতার অভিযোগ তুলে হামলা, সংসদে নারী সংসদ সদস্যদের প্রতি অবমাননাকর ও অসাংবিধানিক বক্তব্য এবং গণমামলার মাধ্যমে প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিস্তার- এসব ঘটনা পরিস্থিতির অবনতি নির্দেশ করে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আদালত প্রাঙ্গণে নারী রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের প্রতি অশালীন আচরণও অব্যাহত রয়েছে, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, অতীতে মব সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা, সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা, গুপ্তহত্যা, নারী নির্যাতন, ঘৃণামূলক বক্তব্য ও সাইবার বুলিংয়ের মতো নৈরাজ্যকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সংগঠনটি জানায়, এর ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে এবং সামাজিক অসহিষ্ণুতা ও প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে। এতে নারী, সংখ্যালঘু, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং ভিন্ন পরিচয়ের মানুষ আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
মহিলা পরিষদ বলেছে, নারী বিদ্বেষ, ঘৃণা প্রচার, উগ্রতা এবং আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভিন্নমত, পরিচয় বা জীবনধারার কারণে মানুষের ওপর হামলা চালানো মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সংবিধানের পরিপন্থি।
এ অবস্থায় সংগঠনটি সরকারকে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং জনগণের নিরাপত্তা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের প্রতিও দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়।
গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও সমতা ভিত্তিক মানবিক সমাজ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।