বাংলাদেশ নিয়ে যা বলছে আইএমএফের পূর্বাভাস

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ minutes ago

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাবে সরকারের রাজস্ব আয় সামান্য বাড়বে। তবে  সামগ্রিকভাবে সরকারের ঘাটতি বেড়ে যাবে। পাশাপাশি একদিকে সরকারের ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনই বৈদেশিক ঋণের প্রবাহ কমবে। মানুষের স্বার্থে সরকারি খাতের ব্যয় বাড়লেও অনেক দেশের তুলনায় এ বৃদ্ধির হার বেশ কম। সোমবার রাতে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ)-এর এক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের চলমান বসন্তকালীন সভা উপলক্ষে প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ বা ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার হতে পারে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সঙ্গে আগামী অর্থবছরে এ জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরো কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করছে আইএমএফ।

এর আগে গত অক্টোবরে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় প্রকাশিত আউটলুকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। ইরান যুদ্ধের কারণে সংকটে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। তাই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে আইএমএফ।

ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটি বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে।

প্রতিবেদনে সরকারের আর্থিক অবস্থার সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের বিভিন্ন খাত নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে সরকারের ব্যয় গত অর্থবছরে বেশ কমে গিয়েছিল। তবে চলতি অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় বাড়বে। ব্যয় বাড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সরকারের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া। এ অবস্থায় বিভিন্ন খাতে সরকার আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সমন্বয় না করলে ভর্তুকি বাড়বে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জিডিপির হিসাবে সরকারের সামগ্রিক ভারসাম্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। গত অর্থবছরে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ ঘাটতি আরও কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং আগামী অর্থবছরে তা আরও বেড়ে সাড়ে ৪ শতাংশ হতে পারে। পরে ২০২৭ থেকে ২০৩০-এ দুই অর্থবছরে আরও বেড়ে ৫ শতাংশ হতে পারে।

গত অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয় কমে জিডিপির হিসাবে ৭ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছিল। চলতি অর্থবছরে তা সামান্য বেড়ে জিডিপির হিসাবে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। আগামী অর্থবছরে সামান্য বেড়ে ৯ দশমিক ১ শতাংশ উন্নীত হতে পারে। এর পরের কয়েক বছরে এটি বেড়ে সাড়ে ৯ শতাংশে যেতে পারে।

আইএমএফ-এর অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা নেওয়ায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে। দেশে বিনিয়োগের পরিবেশও উন্নত হবে। এর প্রভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া বিগত সরকার রাজস্ব খাতে যে সংস্কার কর্মসূচি শুরু করেছিল, তা বর্তমান সরকার অব্যাহত রাখলে রাজস্ব আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত অর্থবছরের সরকারি ব্যয় কমে গিয়ে ১১ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছিল। চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে। আগামী অর্থবছরে বেড়ে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। তবে সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়াতে পারছে না। যে কারণে এ দুটি খাতে সার্বিক সেবার মান উন্নত হচ্ছে না।

সূত্র জানায়, রাজস্ব আয় কমায় সরকার নির্ভর করছে বৈদেশিক ঋণের ওপর। এর মধ্যে বৈদেশিক খাতে ভারসাম্য রক্ষায় সরকারকে বৈদেশিক ঋণও নিতে হচ্ছে। এই ঋণের বড় অংশই যাচ্ছে আগের সরকারের নেওয়া ঋণ পরিশোধে। ফলে সরকার ঋণ নিয়েও উন্নয়ন খাতে বেশি অর্থ ব্যয় করতে পারছে না।

  • আইএমএফ
  • পূর্বাভাস
  • বাংলাদেশ
  • #