কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর হিসেবে পরিচিত আবদুর রহমান ওরফে শামীমকে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি খাজা আহম্মেদকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। জামায়াত-শিবিরের খাজা আহম্মেদসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতপরিচয়ের ১৮০ থেকে ২০০ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শিবিরের সাবেক ওই নেতার হুকুমে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান সোমবার রাতে দৌলতপুর থানায় এই হত্যা মামলা করেন ফজলুর রহমান।
মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামি হলেন ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের খাজা আহম্মেদ, হোসেনাবাদ বিশ্বাসপাড়া গ্রামের মো. আসাদুজ্জামান, পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের রাজীব মিস্ত্রি ও ইসলামপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মো. শিহাব।
স্থানীয় সূত্র জানায়, খাজা আহম্মেদ কুষ্টিয়া জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও আসাদুজ্জামান খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি। শিহাব একটি মাদ্রাসার শিক্ষক, রাজীব মিস্ত্রি জামায়াতের কর্মী হিসেবে পরিচিত। রাজীবকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে প্রচারণায় দেখা গিয়েছিল।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার দুপুরে খাজা আহম্মেদের হুকুমে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবদুর রহমানের দরবার শরিফে হামলা চালায়। আসামিরা দরবার শরিফের দ্বিতীয় তলায় ঢুকে জোবায়ের নামে একজনকে মারধর করেন। এরপর রাজীব মিস্ত্রি লোহার রড দিয়ে আবদুর রহমানের কোমর ও মাথায় আঘাত করেন। অন্য আসামিরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। বাধা দিতে গিয়ে দরবার শরিফের পরিচারিকা জামিরনও জখম হন। হামলায় দরবার শরিফে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে এবং ৫ লাখ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে খাজা আহম্মেদ জানান, হামলার দিন বিষয়টি আইনি উপায়ে সমাধানের জন্য আলোচনার কথা ছিল। হামলা শুরু হলে তিনি ফজলুর রহমানকে ফোন করে সতর্ক করেছিলেন ময়নাতদন্ত শেষে লাশ হস্তান্তর পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন। তাকে কেন আসামি করা হয়েছে, তা তার বোধগম্য নয়।
আরেক আসামি আসাদুজ্জামানও হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, আইনি সমাধানের বিষয়ে পুলিশের সঙ্গেও তার কথা হয়েছিল।
ঘটনার দিনের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল লোক আবদুর রহমানের আস্তানায় ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একদল যুবক ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে আবদুর রহমান প্রাণ ভিক্ষা চান। এ সময় রাজীব মিস্ত্রি তাকে আঘাত করেন এবং অন্যরাও তাকে মারধর করতে করতে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নিয়ে যান।
প্রসঙ্গত, ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে শনিবার দুপুরের দিকে কথিত পীর শামীম রেজার দরবার শরিফে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী। এ সময় বিক্ষুব্ধরা দরবারের দোতলার একটি কক্ষ থেকে শামীম রেজাকে বের করে এনে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেন। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর হাতে শামীমের দুই অনুসারী আহত হন।