ডাকাতি ও হত্যার অভিযোগে সন্দেহভাজন ৬ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। ভারতের একাধিক রাজ্যে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সুমন হালদার ওরফে পান্নু, সাইফুল ইসলাম, সোহেল শেখ, মোহাম্মদ নাসির, নূর ইসলাম ওরফে নাদিম খান এবং জাকির। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের আরও অন্তত দুই সহযোগী পলাতক রয়েছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই বাংলাদেশের একটি ডাকাত গোষ্ঠীর সদস্য। প্রতিটি অপরাধের পরই তারা বাংলাদেশে পালিয়ে যেতো। কিছুদিন পর আবার ভারতে ঢুকে অপরাধে লিপ্ত হতো।
চক্রটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে অন্তত ১৪টি ডাকাতি, লুট এবং হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
গোয়ার মাপুশায় ২০২৫ সালে দায়ের করা এমন একটি মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা জোরপূর্বক একটি বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের বেঁধে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং ৩৫ লাখ ভারতীয় রুপি মূল্যের গয়না ও নগদ অর্থ লুট করে পালিয়ে যায়।
বুধবার দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ‘অভিযুক্তরা সবাই বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার বাসিন্দা। একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ ও ১৫ এপ্রিলের মধ্যবর্তী রাতে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের চাঁদাবাজি ও অপহরণ দমন শাখার পরিচালিত একটি অভিযানে তারা ধরা পড়ে।’
পুলিশের দলটি যখন সন্দেহভাজনদের আটক করার চেষ্টা করে, তখন তারা পালানোর উদ্দেশ্যে গুলি চালায়। পুলিশ জানায়, তারা পাল্টা গুলি ছুড়লে একপর্যায়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে চারটি পিস্তল, তাজা কার্তুজ, ব্যবহৃত কার্তুজের খোল এবং বাড়ি ভাঙার বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পলাতক অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে পরবর্তী তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
পুলিশের তথ্যমতে, এই অপরাধী চক্রটি বেশ কয়েক বছর ধরে হিট-রান-হাইড কৌশল অবলম্বন করে সক্রিয় ছিল। তারা দিল্লি, গোয়া, কর্ণাটক, উত্তর প্রদেশ, ওড়িশাসহ অন্যান্য রাজ্যের বিত্তবান পরিবারগুলোকে টার্গেট করত।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করত, অত্যন্ত নৃশংসভাবে ডাকাতি করত এবং এরপর গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যেত। সেখানে কয়েক মাস আত্মগোপনে থাকার পর তারা ফিরে আসত এবং নতুন নতুন এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু বানাত।’