ছয় জেলায় বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ ঘন্টা আগে

দেশে বজ্রপাতে ছয় জেলার ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ৫ , রংপুরে ২ ও হবিগঞ্জে ১, ময়মনসিংহে ২ এবং নেত্রোকাণায় ১ এবং কিশোরগঞ্জে ১  জনের মৃত্যু হয়েছে।  শনিবার দিনের বিভিন্ন সময়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে হওয়া পৃথক বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে জেলার দিরাই, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জ উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় বজ্রপাতে আরও অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুজন সরকার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে হাঁস চরাতে গিয়ে বজ্রপাতে সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে আবুল কালামের মৃত্যু হয়। একই সময় ধর্মপাশা উপজেলায় বজ্রপাতে আরও ২ জন প্রাণ হারান। নিহতরা হলেন—ইসলামপুর গ্রামের রহমত উল্লাহ ও পাইকুরাটি গ্রামের হাবিবুর রহমান। অন্যদিকে, দিরাই উপজেলার পেরুয়া গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া হাওরে কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা যান। এছাড়া জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর (গজারিয়া হাটি) গ্রামে বজ্রপাতে নুরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

রংপুর : রংপুরের মিঠাপুকুরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৬ জন। শনিবার বিকেলে মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের পাগলারবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সখীপুর গ্রামের তালেব উদ্দিন ও মিলন পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে আবহাওয়া খারাপ হলে পাশের একটি টিনের ছাউনিতে আশ্রয় নেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তারা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাদের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে।

হবিগঞ্জ : শনিবার বজ্রপাতে হবিগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের বিবিয়ানা নদীর তীরবর্তী মমিনা হাওরে এ ঘটনা ঘটে। মৃত সুনাম উদ্দিন ওই ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে জীবিকার তাগিদে সুনাম উদ্দিন মমিনা হাওরে ধান কাটতে যান। দুপুরের দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘে ঢেকে গিয়ে শুরু হয় বৃষ্টি ও বজ্রপাত। এ সময় হাওরে ধান কাটার কাজে থাকা অবস্থায় বজ্রাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সকালে সুনাম উদ্দিন হাওরে ধান কাটতে যান। দুপুরে আকস্মিক বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া জানান, বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের দুই উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর ২টার দিকে গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ জানিয়েছে।

নিহতরা হলেন- গৌরীপুর উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামর ওলি মিয়ার ছেলে রহমত আলী উজ্জ্বল (৩০) এবং গফরগাঁও উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের ধাইরগাঁও গ্রামের প্রয়াত সেকান্দর আলী খান মমতাজ আলী খান (৫৮)। গৌরীপুর থানার ওসি কামরুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

গফরগাঁও থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, মমতাজ আলী খান জোহরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নেত্রকোণা : নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলায় হাওড়ে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আলতু মিয়া (৬৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়। দুপুরে উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের সামনের মেষির হাওড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলতু মিয়া ওই গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে ধলার হাওরে চলতি বোরো মৌসুমের ধান কাটতে যায় আলতু মিয়াসহ স্থানীয় কৃষকরা। এ সময় বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে স্থানীয় কৃষকরা যে যার মতো বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়। বৃষ্টির থামলে কৃষকরা আবারো ধান কাটতে গেলে হাওরের জমিতে আলতু মিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঝলসানো চিহ্ন দেখে স্থানীয়রা নিশ্চিত বজ্রপাতেই কৃষক আলতু মিয়ার মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে তার মরদেহ বাড়ি নিয়ে যান।

এ বিষয়ে আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শাহ্‌নূর রহমান বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে সংবাদ পেয়েছি যে হাওড়ে কাজ করতে গিয়ে একজন কৃষক নিহত হয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর নিয়েছি।

কিশোরগঞ্জ : জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওরে বোরো ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে হলুদ মিয়া নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হলুদ মিয়া (৩৭) উপজেলার ৯নং জয়কা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের উত্তর কলাবাগ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

জানা গেছে, দুপুরে বড় হাওরে ধান কাটার সময় হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতের কবলে পড়ে গুরুতর আহত হন হলুদ মিয়া। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার। করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • বজ্রপাত
  • মৃত্যু
  • সুনামগঞ্জ
  • #