সাংবাদিকদের অধিকার বিষয়ক সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) বাংলাদেশের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এম. আসাদুজ্জামানের কাছে চিঠি পাঠিয়ে নতুন সরকারকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান জানিয়েছে।
চিঠিতে সিপিজে বলেছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো প্রত্যাহারের যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আটক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে তাদের মুক্তি দিতে হবে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, সাংবাদিকরা প্রায় ১৮ মাসের বেশি সময় হত্যা মামলায় আটক রয়েছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং কোনো আনুষ্ঠানিক চার্জশিটও জমা দেয়া হয়নি। আটক সাংবাদিকরা হলেন ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল হক বাবু ও শ্যামল দত্ত।
সিপিজে অভিযোগ করেছে, আগের সরকারের সময় রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে প্রতিশোধমূলকভাবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, প্রায় ৬০০ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনো আইনগত বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি।
চিঠিতে আটক সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাংবাদিক শ্যামল দত্ত হৃদরোগ ও মারাত্মক স্লিপ অ্যাপনিয়ার রোগে ভুগছেন। তবে এখনো যথাযথ চিকিৎসা পাননি বলে দাবি করা হয়। মোজাম্মেল হক বাবু ২০২৩ সালের শেষ দিকে প্রোস্টেট ক্যানসারের বড় অস্ত্রোপচার করলেও পরবর্তী চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন না বলে বলা হয় বিবৃতিতে।
ফারজানা রূপাকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে দুই সপ্তাহের জন্য এমন একটি ‘কনডেমনেশন সেল’-এ রাখা হয়, যেখানে সাধারণত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের রাখা হয় বলে এতে উল্লেখ করা হয়। সিপিজে বলেছে, এসব ঘটনা বাংলাদেশের সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় এবং সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সুত্র : মানবজমিন