আট বছর আগে ঢাকার মেরাদিয়ায় শিশু সাফওয়ান আল নিনাদ হত্যা মামলায় শিশুটির মায়ের মামা জহিরুল ইসলাম ওরফে লুড্ডু ও লুড্ডুর স্ত্রী খাদিজা আক্তার রাণীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার এ রায় ঘোষণা করেছেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আয়েশা আক্তার মৌসুমী।
দণ্ডিতরা সম্পর্কে নিহতের নানা-নানি হচ্ছেন। ঘটনার সময় ৮ বছর বয়সি নিনাদ বনশ্রী ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
আদালতের অতিরিক্ত পিপি মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম তুষার বলেন, দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজার টাকা যাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। ৯০ হাজার টাকা ভিকটিমের পরিবারকে দিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।
রায় ঘোষণার আগে জামিনে থাকা দুই আসামি আদালতে হাজির হন। রায় শেষে তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন কৌঁসুলি ওয়ালিউল ইসলাম তুষার।
২০১৮ সালের ১৫ জুন রাতে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় নিনাদ। পরদিন (ঈদের দিন) দুপুরে বাড়ির পাশে বেকারির পণ্যবাহী একটি ভ্যানগাড়ির ভেতরে শিশুটির লাশ দেখতে পায় এলাকাবাসী। ওই দিনই অচেনা ব্যক্তিদের আসামি করে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন নিনাদের বাবা স্বপন বেপারী।
থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও পিবিআইয়ের হাত ঘুরে মামলার তদন্তভার আসে সিআইডির ওপর। তদন্ত পেয়ে তারা দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেন। নিনাদের নানা জহিরুল সম্পত্তি দিতে না চাওয়ায় আসামিরা শিশুটিকে হত্যা করেন বলে তদন্তে উঠে আসে।
তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৮ জুন দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মাইনুল ইসলাম। পরের বছর ২২ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গতকাল সোমবার রায় ঘোষণা করা হলো।