রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) ভবনে পুলিশের উপস্থিতিতেই দরপত্র বাক্স ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে কয়েক মিনিটের মধ্যে ভবনের চারতলা থেকে বাক্সটি উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর আরডিএ ভবনের সামনে কয়েকজন যুবকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। দুপুর পর্যন্ত সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার সঙ্গে নগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুন, একই ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক মুন্না, যুবদল নেতা তৌফিক ও সাগর এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শরিফসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল হঠাৎ ভবনে ঢুকে দরপত্র বাক্সটি নিয়ে যায়। তাদের স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
আরডিএ সূত্র জানায়, গত ২০ এপ্রিল কয়েকটি পরিত্যক্ত ও ব্যবহার অযোগ্য মালামাল নিলামে বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। মঙ্গলবার ছিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। বেলা ১টা পর্যন্ত দরপত্র জমা নেওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল এবং বেলা আড়াইটায় বাক্স খোলার কথা ছিল।
নিলামে আরডিএ মার্কেটের অচল মালামাল, আরডিএ পার্কের গাছ, শিরোইল বাস টার্মিনালের পুরোনো বিলবোর্ডের সামগ্রী এবং ঢাকার লিয়াজোঁ অফিস-কাম-রেস্ট হাউসের কিছু ব্যবহার অযোগ্য জিনিসপত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রায় ৪০০টি শিডিউল বিক্রি হয়েছিল বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এসব মালামালের মোট মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।
আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান বলেন, দরপত্র বাক্সটি পুলিশের পাহারায় ছিল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক এসে জোর করে বাক্সটি নিয়ে যায়। পরে দুই মিনিটের মধ্যে তারা ভবনের চারতলায় বাক্সটি রেখে চলে যায়।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে নিরাপত্তা জোরদার করে নির্ধারিত সময়েই বেলা আড়াইটায় বাক্স খোলা হয়। দরপত্র বাতিল হবে কি না, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। সংগঠনের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান বলেন, আরডিএ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র : ইত্তেফাক
