খানজাহান আলীর মাজারের দীঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো কুমিরটি

লেখক: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান (রহ.) এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে থাকা একমাত্র নারী কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে স্থানীয়দের সহায়তায় বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের একটি টিম খানজাহান আলী মাজারের দীঘির সেই কুমিরটিকে উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগের কুমির বিশেষজ্ঞরা দিঘির পূর্বপারের একটি ছোট পুকুর থেকে এই কুমিরটিকে ধরা হয়। পরে হাত, পা ও চোখ বেঁধে বন বিভাগের গাড়িতে ওঠানো হয়। গাড়িতে করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

এদিকে, কুমিরটিকে উদ্ধারের জন্য এদিন সকাল থেকেই বন বিভাগসহ প্রশাসনের লোকজন মাজার এলাকায় উপস্থিত হয়। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে দিঘির পূর্ব পাড়ে কুমিরটির দেখা মেলে। পরে কুমিরটি ধরার কার্যক্রম শুরু হয়। ১২টার দিকে খাবারের প্রলোভন দিয়ে কুমিরটিকে বেঁধে ফেলা হয়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দীঘি থেকে তুলে গাড়িতে করে খুলনাতে নিয়ে রওনা করে বন বিভাগ।

কুমির উদ্ধারের সময় খুলনা বিভাগীয় বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল, বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু রাসেল, বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন, বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মো. সামসুল আরেফিনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে তিন দিন আগে কুমিরটির আক্রমণে এক শিশুর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভায় জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রাণীটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে অনুযায়ী মাজারের দিঘির কুমিরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কুমিরের বিষয়ের কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা পরে জানানো হবে বলেন তিনি।

 

  • কুমির
  • খানজাহান আলী
  • দীঘি
  • মাজার