বরগুনায় একদিনে ৪ মরদেহ উদ্ধার

লেখক: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ১ মাস আগে

বরগুনার বিভিন্ন এলাকা থেকে একদিনে এক গৃহবধূ, এক বৃদ্ধা নারী, এক কলেজছাত্র ও এক রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৩ জুন) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের লেমুয়া গ্রামে নিজ ঘর থেকে রুবি আক্তার কনার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মো. সাইফুল ইসলাম কিসলুর স্ত্রী। কিসলু বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল থেকে স্বামীকে উদ্দেশ করে লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ। চিরকুটে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে, দাম্পত্য জীবনের হতাশা এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চিরকুটটি সত্যিই নিহত কনার লেখা কি না, তা যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।

এদিকে, একইদিনে সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের নলী এলাকায় নিজ ঘর থেকে ৯২ বছর বয়সী সালেহা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, কয়েক মাস ধরে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, বামনা উপজেলার কলাগাছিয়া এলাকায় একটি বন্ধ কক্ষ থেকে আবির হোসেন এহসান হাওলাদার (১৮) নামে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, আবির ছোটবেলা থেকে চাচার বাড়িতে বড় হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার কানে হেডফোন ছিল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রেমঘটিত সম্পর্কের অবনতির কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

এছাড়া পাথরঘাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধসংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে রিকশাচালক মিজানুর রহমানের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, গৃহবধূ রুবি আক্তার কনার ঘটনায় আত্মহত্যার প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে। চিরকুটটিও তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে। অন্য ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রেও প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। রিকশাচালক মিজানুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। উদ্ধার হওয়া চারটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • বরগুনা
  • মরদেহ