ফরিদপুরে কিশোর ও চট্টগ্রামে শিশু নিখোঁজ, মুক্তিপণ দাবি

লেখক:
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে
প্রতীকী ছবি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে সামিউল মল্লিক নামের এক কিশোর। বাড়ি থেকে বাই-সাইকেল নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এদিকে চট্টগ্রামের পটিয়ায় পাঁচ বছরের শিশু মো. জায়ান নিখোঁজের ঘটনায় অপহরণের অভিযোগ উঠেছে।

ফরিদপুরের সদরপুরে নিখোঁজের ঘটনায় একদিন পর স্বজনদের ইমো নম্বরে ম্যাসেজ দিয়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ সামিউল মল্লিক সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মিরাজুল মল্লিকের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সকাল ৭টার দিকে সামিউল একটি বাই-সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে সে আর বাড়িতে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

পরিবারের দাবি, গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে সামিউলের চাচাতো কাকা রবিন মল্লিকের ইমো নম্বরে একটি বার্তা আসে। সেখানে সামিউলকে ফেরত পেতে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

সামিউলের দাদা হেলাল মোল্লা বলেন, ‘ইমোতে একটি হুমকি দেওয়ার পরপর বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। সামিউলের সন্ধান পেতে আমরা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

সদরপুর থানার ওসি মো. আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেন, ‘কিশোর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তাকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে, চট্টগ্রামের পটিয়ায় পাঁচ বছরের শিশু মো. জায়ান নিখোঁজের ঘটনায় অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকা থেকে সে নিখোঁজ হয়। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি। এদিকে পুলিশ একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যেখানে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।

নিখোঁজ শিশু মো. জায়ান (৫) দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার বাসিন্দা মো. শাহজাহানের ছেলে। এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার অপহরণকারীদের পাঠানো একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘পুলিশের কাছে গেলে ভালো হবে না। পুলিশের কাছে গেলে জায়ানের লাশ পাবি।’ একই সঙ্গে শিশুটিকে ফেরত পেতে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

এদিকে মুক্তিপণের চিরকুটের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, ‘শিশু নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া চিরকুটসহ বিভিন্ন সূত্র ধরে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।’

  • কিশোর
  • চট্টগ্রাম
  • দাবি
  • নিখোঁজ
  • ফরিদপুর
  • মুক্তিপণ
  • শিশু