যুবদল নেতার বিরুদ্ধে সাবেক শ্রমিক নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

লেখক: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ দিন আগে
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে জমি ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে সাবেক শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা মানিক মিয়াকে (৪০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তির নথিতে ঘটনাটিকে ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হামলার এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় মানিক মিয়াকে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বুধবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত মানিক মিয়া পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার আজিবুল ইসলামের ছেলে। তিনি গৌরীপুর উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি এবং পেশায় পালকি গাড়ির চালক ছিলেন।

নিহতের ছোট ভাই সুখ মিয়া অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত সুয়েব মুন্সির পূর্বপুরুষদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এছাড়া তারা অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন সময় এলাকা ছেড়ে থাকতে হয়েছে। এর আগেও সুয়েব মুন্সি তাদের পরিবারের সদস্যদের মারধর করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তার অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে মানিক মিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বসে থাকাকালে সুয়েব মুন্সি ১০ থেকে ১৫ জন সহযোগীকে নিয়ে তার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হামলাকারীরা তাকে সতিশা রোড এলাকায় নিয়ে গিয়ে তার স্ত্রী সেলিনার কাছে রেখে চলে যায়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির সময় প্রভাব খাটিয়ে ঘটনাটিকে ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। তাদের দাবি, এতে প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জবায়দুল হক বলেন, নিহতের স্বজনদের কাছ থেকে জেনেছি তাকে মারধর করা হয়েছিল। তবে ভর্তির কাগজে কেন ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ লেখা হয়েছে, তা আমার জানা নেই।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ভর্তির নথিতে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখ থাকলেও নিহতের পরিবার হাসপাতাল পরিচালকের কাছে আবেদন করলে তদন্ত সাপেক্ষে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুয়েব মুন্সি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার বা তার সহযোগীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার দাবি, নিহত ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং মাদক ব্যবসার অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

এদিকে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি শামসুল হক বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন। বিষয়টি শুনেছেন, তবে বিস্তারিত না জেনে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং নিহতের পরিবারকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে মানিক মিয়ার মরদেহ দাফন করা হয়েছে। 

সূত্র: সমকাল

  • গৌরীপুর
  • ময়মনসিংহ
  • যুবদল নেতা
  • হত্যা