অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

লেখক: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ২ দিন আগে

প্রথমার্ধে গোল হজমের পর পেনাল্টিও মিস করেন লিওনেল মেসি। দ্বিতীয়ার্ধে আবারও গোল খেয়ে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত বিদায়ের শঙ্কায় ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে শেষদিকে ১৪ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। আটলান্টা স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।

প্রথমার্ধে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র লিওনেল মেসিকেও থামিয়ে দেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। ২১ মিনিটে মেসির পেনাল্টি ঠেকিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চাপে ফেলে দেন তিনি।

বিরতির পরও বদলায়নি ম্যাচের চিত্র। বলের দখল আর্জেন্টিনার থাকলেও সুসংগঠিত রক্ষণে তাদের আটকে রাখে মিসর। ৫৮ মিনিটে জিকোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হলেও ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) ফাউলের কারণে সেটি বাতিল করেন। তবে হতাশ হয়নি আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

৬৭ মিনিটে দুরন্ত এক পাল্টা আক্রমণে মোহাম্মদ সালাহর নিখুঁত পাস থেকে এবার আর ভুল করেননি জিকো। ছয় গজের ভেতর থেকে জালে বল জড়িয়ে মিশরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। তখন মনে হচ্ছিল বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনা। কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। ৭৯ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে উঠে আসা ক্রিস্টিয়ান রোমেরো হেডে ব্যবধান কমান। 

চার মিনিট পরই সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। মেসির ডান দিকের ক্রস মিশরের রক্ষণ ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে লাউতারো মার্তিনেজ বল বাড়িয়ে দেন হুলিয়ান আলভারেসকে। তার পাস থেকে কোনো ভুল না করে জোরালো শটে ২-২ করেন মেসি। পেনাল্টি মিসের হতাশা কাটিয়ে ম্যাচে নিজের ছাপ রাখেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

সমতা ফেরার পর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে স্কালোনির দল। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ডানপ্রান্ত থেকে ভেসে আসা ক্রসে এনজো ফার্নান্দেজ দারুণ এক হেডে বল জড়িয়ে দেন জালের ওপরের কোণে। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির।

তবে গোলটি নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলে মিশর। তাদের দাবি, গোল হওয়ার আগে নিজেদের বক্সে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ফাথিকে ফাউল করেছিলেন। রেফারি কিংবা ভিএআর কেউই তাতে সাড়া দেয়নি। প্রতিবাদ করতে গিয়ে গোলরক্ষক শোবেইর হলুদ কার্ড দেখেন, এমনকি মিশরের কোচিং স্টাফের এক সদস্য মাঠে ঢুকে পড়ায় লাল কার্ডও দেখতে হয়।

শেষ মুহূর্তে মরিয়া চেষ্টা করেও আর সমতায় ফিরতে পারেনি মিশর। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আনন্দাশ্রুতে ভেঙে পড়েন লিওনেল মেসি। অন্যদিকে হতাশায় ভেঙে পড়েন মোহাম্মদ সালাহ ও তার সতীর্থরা।

দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। আর শেষ মুহূর্তের এই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় কামব্যাক হিসেবেই জায়গা করে নিল।

  • আর্জেন্টিনা
  • কোয়ার্টার ফাইনাল
  • মিশর