ছবি: সংগৃহীত
জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো দুই প্রবাসীকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আসামিরা হলেন সাহেদুল ইসলাম ও রিশাদ তায়ানী।
জানা গেছে, সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে জঙ্গি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে সেখানকার পুলিশ তাদের আটক করে। পরে বুধবার বিমানযোগে তাদের ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন অফিসে পাঠানো হয়। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।
এদিন আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক আশরাফুল আলম। ওই আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা সিঙ্গাপুরে থাকাকালীন বিভিন্ন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথা জানিয়েছে। তারা যেকোনো সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে জঙ্গি হামলা করতে পারে এমন সম্ভাবনা রয়েছে। তারা বাংলাদেশের কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে জড়িত কি না, কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করে কি না এবং জঙ্গি কার্যক্রমের অর্থের জোগানদাতা কে বা কারা—তা জানার জন্য আসামিদের রিমান্ড প্রয়োজন।
শুনানিকালে বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড়ানো এক আসামির নাম জানতে চাইলে তিনি নিজেকে রিশাদ তায়ানী বলে পরিচয় দেন। সিঙ্গাপুর পুলিশ কেন তাদের গ্রেপ্তার করেছে—বিচারকের এমন প্রশ্নে রিশাদ বলেন, ‘ফারাবী নামের এক লোককে নিয়ে ফেসবুকে লিখছিলাম, এজন্য।’
ফারাবী কোন দেশের নাগরিক—বিচারক জানতে চাইলে রিশাদ বলেন, ‘তিনি বাংলাদেশের হেফাজত ইসলামের এক নেতা। তাকে বাংলাদেশের কারাগারে রাখা হয়েছিল, এখন তিনি কারামুক্ত। ২০২৩ সালে ফেসবুকে এই পোস্ট করেছিলেন বলে আদালতকে জানান তিনি।’
এরপর বিচারক বলেন, আপনারা রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আপনাদের কি দরকার এসব নিয়ে কথা বলা? পরে আদালত দুই আসামিকে তিন দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।
