ফাইল ছবি
নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরও যদি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের মতো সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, তবে তা আইনের শাসন, জননিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে বলে মন্তব্য করেছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমানের বসতবাড়িতে বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে আসক এ কথা জানায়।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের তথ্য তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) গভীর রাতে একদল ব্যক্তি কাজী মিজানুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালান। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা প্রথমে লুটপাট করেন, পরে বুলডোজার দিয়ে বাড়ির বিভিন্ন অংশ গুঁড়িয়ে দেন এবং শেষে অগ্নিসংযোগ করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী জড়িত ছিলেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বিবৃতিতে আসক বলেছে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার প্রতিকার কেবল আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হতে পারে। আদালতের আদেশ বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কারও বাড়িঘর ভেঙে ফেলা, সম্পদ লুট করা কিংবা অগ্নিসংযোগ করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনের শাসনের পরিপন্থী। রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শ-নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থাটি আরও বলেছে, একটি নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরও যদি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের মতো সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, তবে তা আইনের শাসন, জননিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও উৎসাহিত হবে এবং সমাজে ভয় ও অনিরাপত্তার পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
