ফরিদপুরের সালথায় ৯ বছরের এক মাদ্রাসাপড়ুয়া শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা , সাভারে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, শেরপুরে সদরে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর গর্ভপাত ঘটানো, মাগুরার শ্রীপুরে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর কলাবাগানে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং টাঙ্গাইলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
ফরিদপুরের সালথায় ৯ বছরের এক মাদ্রাসাপড়ুয়া শিশুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রী।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. খায়ের দাঈ (৩৫)। তিনি সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বারাংকুলা গ্রামের মমিন দাঈয়ের ছেলে; পেশায় একজন মুদি দোকানি।
ভুক্তভোগী শিশুটির মা জানান, শনিবার দুপুরে শিশুটি বাড়ির পাশে আম কুড়াতে গিয়েছিল। এ সময় রামদা দিয়ে তার মুখ আটকে ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাগানে নিয়ে যায় খায়ের। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনা স্থানীয়রা দেখে ফেললে অভিযুক্ত খায়েরকে একটি ঘরে আটকে রাখেন। পরে কৌশলে সে ঘর থেকে পালিয়ে যায়। পরে এ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সালথা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত খায়েরকে একমাত্র আসামি করে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আমরা আটকের চেষ্টা করছি।
ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসাশিক্ষক আটক
সাভারে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে (১৩) শ্লীলতাহানির অভিযোগ মো. কামরুজ্জামান (৩৬) নামে এক মাদরাসাশিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে সাভারের কমলাপুর এলাকার দারুল কোরআন বাহারুন্নেছা কমলাপুর মহিলা মাদরাসার ভেতর থেকে আটক করে পুলিশ।
আটক কামরুজ্জামান ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার কুমারগাতা গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে। তিনি সাভারের কলমাপুরে বসবাস করে দারুল কোরআন বাহারুন্নেছা কমলাপুর মহিলা মাদরাসার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
শেরপুরে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ
শেরপুরে সদরে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৩ মে) নির্যাতনের শিকার ওই শিশুর পরিবার বাদী হয়ে স্থানীয় যুবক কাউছার (২৪), সুন্নত আলী সন্তু (৬০) সহ আরও কয়েকজনের নামে সদর থানায় মামলা করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, শিশুটিকে বিভিন্ন সময় স্থানীয় শাহিন মিয়ার ছেলে কাউছার মিয়া ধর্ষণ করেন। একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটে। পরে শিশুটি একপর্যায়ে ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। শিশুটির শারীরিক গঠনে পরিবর্তন হলে কাউসার মিয়া অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় গর্ভপাত করান। গর্ভপাতে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়ে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এদিকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একটি মহল চাপ প্রয়োগ করে। পরে ২২ মে শুক্রবার শিশুর মা আশঙ্কাজনক অবস্থায় শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।
এ বিষয়ে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার তাহেরাতুল আশরাফী বলেন, ১২ বছরের একজন কন্যাশিশুকে গাইনি ওয়ার্ডে গতকাল ভর্তি করা হয়েছে। যেহেতু এটি একটি পুলিশ কেস, তাই আমরা কিছুটা অপেক্ষা করছি। মেডিকেল বোর্ড বসে পরবর্তী বিষয়গুলো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, শেরপুর পৌর শহরের একটি মহল্লায় শিশুকে ধর্ষণ, গর্ভপাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ কাজ করছে।
স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ায় গ্রেপ্তার ৩
মাগুরার শ্রীপুরে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর কলাবাগানে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং সেই ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন অনিক, রানা বিশ্বাস এবং নয়ন শেখ। তারা সবাই শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে শ্রীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মো. আতাউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শুক্রবার (২২ মে) ওই ঘটনায় স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
টাঙ্গাইলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে পাঁচ বছরের এক কন্যা শিশুকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে শুক্রবার (২২ মে) রাতে থানায় মামলা করেছেন। ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মিন্টু মিয়া (৫৫)। তিনি দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে।
দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। শিশুটির জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
