বানারীপাড়ায় অবৈধ ইটভাটা, উজাড় হচ্ছে কৃষিজমির মাটি ও গাছপালা

: বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১ মাস আগে

বরিশালের বানারীপাড়ায় ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন অমান্য করে ভাটাগুলোতে বনভূমি উঁজাড় এবং ফসলি জমি ও সন্ধ্যা নদীর তীরে জেগে ওঠা চরের মাটি কেটে সাবাড় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগার ওপর বসে এসব ইটভাটা চলছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের নীরব ভূমিকা জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি করছে। এসব ইটভাটার ফলে সন্ধ্যা নদীর ভাঙন দিন দিন বাড়ছে, কৃষিজমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপর ব্যাপকহারে দূষণ ছড়াচ্ছে।

বানারীপাড়া, অবৈধ ইটভাটা, উজাড়, কৃষিজমি, গাছপালা

 

ইটভাটার মালিকরা নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো সংরক্ষিত আবাসিক জনবসতি, বাণিজ্যিক এলাকা, বনভূমি, জলাভূমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে ও কৃষিজমিতে ইটভাটা, পাজা ইটভাটা ও ক্লিন ভাটা স্থাপন করে ব্যবসা করছেন। এ উপজেলায় ২৫-৩০টি লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ইটভাটা, পাজা ইট ভাটা ও ক্লিন ভাটা রয়েছে।

জানা গেছে, এর মধ্যে মাত্র দুটি ইটভাটার লাইসেন্স রয়েছে। ভাটায় কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কয়লার পরিবর্তে বানারীপাড়ার সিংহভাগ ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে মূল্যবান বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছ। ফলে উঁজাড় হয়ে যাচ্ছে এলাকার বনভূমি। হাজার হাজার বৃক্ষ গ্রাস করে ফেলছে ভাটাগুলো। এ উপজেলায় খেজুরগাছ ও এর সুস্বাদু ‘রস’ এখন গল্পে পরিণত হয়েছে। এলাকার প্রায় সব খেজুরগাছ ভাটায় পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। ইট প্রস্তুতে সন্ধ্যা নদীর তীরে জেগে ওঠা বিশাল চর ও নদীর শাখা খালের মাটি কেটে একটি চক্র ভাটায় বিক্রি করার ফলে নতুন করে নদীভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ফসলি জমির মাটিও কেটে ভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি দেখলে মনে হবে এখানে সরকারি আইন চলে না; চলে ভাটা মালিকদের গড়া নিজস্ব আইন কানুন। ভাটার বিষাক্ত ধুলোবালি, কালো ধোঁয়া ও আগুনের তাপে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে নিকটবর্তী এলাকার সবুজ বনজ সম্পদ এবং হারাচ্ছে ফলদ গাছ। ভাটার আগুনের তাপে উর্বরতা হারিয়ে দিন দিন অভিশপ্ত মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে ফসলি জমি। চরমভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন ভাটার পার্শ্ববর্তী এলাকার শিশুসহ সব বয়সের মানুষ। বির্পযয়ের মুখে পতিত হচ্ছে এলাকার জনস্বাস্থ্য। ভাটাগুলো লোকালয়ের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের। ইট পোড়ানোর ঝাঁজালো উৎকট গন্ধে ভারি হয়ে আসে এখানকার বাতাস।

উপজেলার বাইশারী, সৈয়দকাঠি ও ইলুহার ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি ইটভাটায় করাতকল বসিয়ে বনভূমি উঁজাড় করার উৎসবে তারা মেতে রয়েছেন। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি ভাটায় টিনের চোঙ্গা বসিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে।

উপজেলার বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নের কাজলাহার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জম্বদীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় লাগোয়া জনবসতি এলাকাসহ সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের মসজিদ বাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইসলামিয়া কলেজ, দারুসসুন্নাত আলিম মাদরাসা, নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও তালাপ্রসাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন বেশ কয়েকটি ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে ওইসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতিসহ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

জানা গেছে,পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে প্রতিবছর লোক দেখানে দায়সাড়া অভিযান পরিচালনা করায় কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না এসব অবৈধ ইটভাটা।

অভিযোগ রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই ভাটা মালিকরা অবৈভাবে ভাটাগুলো পরিচালনা করে আসছেন। এ অভিযোগ স্বীকার করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভাটা মালিক জানান,সংশ্লিষ্ট সবাইকে ম্যানেজ করেই তারা ভাটা পরিচালনা করে থাকেন।

এদিকে এলাকার সচেতন মহল পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের কাছে ইট প্রস্তুত আইনের সঠিক প্রয়োগ কামনা করছেন।

বৈধ ইটভাটার বিষয়ে জিরো টলারেন্স অবস্থানের কথা জানিয়ে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজিদুর রহমান বলেন, শিগগিরই এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করা হবে।

  • অবৈধ ইটভাটা
  • উজাড়
  • কৃষিজমি
  • গাছপালা
  • বানারীপাড়া
  • #