যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। পাশাপাশি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের জোরপূর্বক আটককে ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এদিকে, ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে বলে মনে করেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘চীন যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক আটক এবং দেশ থেকে বের করার ঘটনাকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতি এবং জাতিসংঘ সংস্থার উদ্দেশ্য ও নীতির পরিপন্থী।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘চীন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে, ভেনেজুয়েলার সরকার উৎখাতের চেষ্টা বন্ধ করতে এবং সকল বিষয় আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানাচ্ছে।’
এদিকে, ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে বলে মনে করেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি), মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘ভেনেজুয়েলায় উত্তেজনা বাড়ায় মহাসচিব গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মানহীনতা প্রকাশ করছে এবং এর ফলে দক্ষিণ আমেরিকায় ভবিষ্যতে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।’
গুতেরেস সবাইকে জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণের পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রধান ফলকার তুর্কও বলেছেন, ‘ভেনেজুয়েলার জনগণের নিরাপত্তা এখন সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকনির্দেশনা এটি নির্ধারণ করবে।’
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আগামী সোমবার সকাল ১০টায় ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে। সেখানে ভেনেজুয়েলার প্রতিনিধিদলকেও অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতের ঘটনায় ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হামলা চালিয়ে মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে মার্কিন বিমানবাহিনী আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা বর্তমানে ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন।