শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রের ১৮ জন আটক

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ২ দিন আগে
প্রতীকী ছবি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া একই অভিযোগে রাজশাহীতে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলা শহরের একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের বাসা থেকে তাদের আটক করা হয় বলে জানান নাগেশ্বরী থানার ওসি আব্দুল্লা হিল জামান। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডিজিটাল ডিভাইস, প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রের কপি জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিনারুল ইসলাম। অন্যরা হলেন- রামখানা ইউনিয়নের নাখারগঞ্জ গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে আব্দুল লতিফ, খামার নকুলা গ্রামের আহাদুজ্জামানের ছেলে শাহজামাল, কাজীপাড়া গ্রামের প্রয়াত আবুল কাশেম ছেলে বাবু ইসলাম, বাগডাঙ্গা গ্রামের প্রয়াত জয়নাল আবেদীনের মেয়ে জান্নাতুন নাইম, ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙামোড় ইউনিয়নের বোয়ালভির গ্রামের প্রয়াত নাজির হোসেন সিদ্দিকির ছেলে আরিফুজ্জামান সিদ্দিকি, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাঁশখালি গ্রামের আব্দুল মালেক মৃধার ছেলে হিমেল মাহমুদ, রাজৈর উপজেলার টেকরহাট গ্রামের ইদ্রিস মোড়লের মেয়ে চামেলী আক্তার, আরাজি কোমরপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে বেলাল হোসেন এবং চরদামাল গ্রামের ময়নাল হকের ছেলে আনেয়ার হোসেন।

ওসি আব্দুল্লা হিল জামান বলেন, গোপন খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের একটি বাসা থেকে ছয়জনকে এবং পরে আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডিজিটাল ডিভাইস, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এবং উত্তরপত্রের কপি উদ্ধার করা হয়। আটকদের মধ্যে একজন প্রক্সি পরীক্ষার্থী।
তিনি বলেন, অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় বলেন, বেলা ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। জেলার নাগেশ্বরী, উলিপুর ও সদর উপজেলার ৩৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হয়। এতে অংশ নেয় ২৪ হাজার ২৭৪ পরীক্ষার্থী।

তিনি বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২৫ পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে পরিদর্শক রাখা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী হাকিম দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন জাহান লুনা বলেন, আটকরা থানা পুলিশের হেফাজতে আছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহের আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে রাজশাহীতে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বোয়ালিয়া থানা–পুলিশের আলাদা দুটি দল নগরের উপশহর এবং মালোপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার মাকলাহাট গ্রামের মো. আল মামুন (৪২), একই গ্রামের আনজুয়ারা খাতুন (২৫), মান্দা উপজেলার দাওই গ্রামের রায়হান কবির (৩০), আত্রাই উপজেলার হাটকালুপাড়া গ্রামের নয়ন আলী (২৭), নওগাঁ সদরের চক সুখদা গ্রামের জুলফিকার আলী (৪০) ও রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার নোনাভিটা গ্রামের মাহবুব আলম (৪৬)।

আরএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ছিল শুক্রবার। এই পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার জন্য গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিজেদের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েছিলেন। প্রশ্নপত্র সরবরাহের আশ্বাস দিয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যাংকের স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক, স্বাক্ষরযুক্ত ফাঁকা স্ট্যাম্প, প্রার্থীদের প্রবেশপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়েছিলেন তাঁরা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের ১২টি স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক, ২১টি স্ট্যাম্প ও সাতটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন আসামি আছেন। তাদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আসামিদের মধ্যে রায়হান কবির অসুস্থ। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকিদের আদালতে তুলে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

  • আটক
  • চক্র
  • নিয়োগ
  • পরীক্ষা
  • প্রশ্নফাঁস
  • শিক্ষক
  • #