বাংলাদেশ গার্মেন্টস প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজেএমইএ) ও বাংলাদেশ কনভেনশনাল ও নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) কাঁচা সুতার (ইয়ার্ন) শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে এ দাবি জানিয়েছে সংগঠন দু’টি।
বিজেএমইএ- এর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট সেলিম রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গার্মেন্টস খাত ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দেশীয় শক্তি সংকটে চরম চাপের মুখে। এমন সময়ে কাঁচা সুতার শুল্ক আরোপ একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
তিনি অভিযোগ করেন, রপ্তানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলাকালীন ট্রেড ও ট্যারিফ কমিশন একপক্ষীয়ভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, তিনি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিরাপত্তা চুক্তি লঙ্ঘনের কথাও উল্লেখ করেন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, কেবল নিটওয়্যার খাতই দেশের মোট গার্মেন্টস রপ্তানির ৫৫% (২৭ বিলিয়ন) অবদান রাখে এবং লাখ লাখ কর্মসংস্থান সরবরাহ করে। সেলিম রহমান বলেন, গত বছর বিদেশে কাঁচা সুতার দাম কমেছে, অথচ সরকার এই স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে শুল্ক আরোপের চেষ্টা করছে, যা ২৭ বিলিয়ন রপ্তানি বিপন্ন করবে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো প্রয়োজনীয় সুতার মাত্র ৬০% ব্যবহার করছে এবং উৎপাদনে ঘাটতি ও ক্ষতির মুখে রয়েছে। শুল্ক আরোপ করলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি পাবে এবং অর্ডার হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।
রপ্তানিকারকরা সরকারের কাছে দেওয়া ৩ প্রস্তাবনা হলো-এক. কাঁচা সুতার শুল্ক পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হোক; দুই. মিলগুলোকে সরাসরি প্রণোদনা বা বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হোক; তিন.গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন খরচ কমানো হোক।
সেলিম রহমান সবশেষ আরও বলেন, আমরা চাই যদি স্থানীয় মিলগুলো আন্তর্জাতিকমানে সঠিক সময়ে সুতা সরবরাহ করতে পারে, তবে বিদেশ থেকে কেনার প্রয়োজন নেই। অন্যথায়, শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।