রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন। ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন নম্বর ও ছবি সংগ্রহ নিয়ে বাকবিতন্ডার জের ধরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার দুপুরে। তখন মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায় ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করছিলেন জামায়াতের নারী কর্মীরা। তাদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর সন্ধ্যায় পীরেরবাগের আল মোবারক মসজিদ এলাকায় আবারও দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে পরস্পরের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। ওই সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ–র্যাব গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতরা স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল–ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে টাকা–পয়সার লেনদেন করছিলেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় বিএনপি বাধা দেয়। তখন সেই কার্যক্রম বন্ধ করা হলেও পরে আবারও তারা একইভাবে ভোটারদের টাকা দিতে শুরু করে। বিএনপি নেতাকর্মীরা বাধা দিলে জামাযাতের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়।
ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা বলেন, ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের স্ত্রী দুপুরে জামায়াতের নারী কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এরপর সন্ধ্যায় পীরেরবাগের আল মোবারক মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তখন উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম আজম বলেন, জামায়াতের কিছু কর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। এতে স্থানীয় কয়েকজন বাধা দেন এবং জানতে চান যে কেন এসব সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ নিয়ে তখন উভয়পক্ষে বাদানুবাদ হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।