নিজের দেহটাও দান করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদুল

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ১ দিন আগে

দেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদুল কবির আজু সবশেষে মানুষের কল্যাণে নিজের দেহটাও দান করে গেছেন। জীবনের পুরো সময়টাই মানবসেবায় কাটিয়েছেন তিনি। 

এক দশক আগে পরিবারের সম্মতি নিয়েই মরণোত্তর দেহদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। সে সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে সব আইনিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার মরদেহ যশোর মেডিকেল কলেজের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আজাদুল কবির আজ শনিবার বেলা ১টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যের নানা রোগে ভুগছিলেন। স্ত্রী ও তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি। আসর নামাজের পর যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তার মরদেহ যশোর মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে সর্বস্তরের মানুষ ঈদগাহ মাঠে তার মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

মরহুমের ভাই সংস্কৃতিকর্মী হারুন অর রশিদ জানান, আজুর মেজ বোন কানাডা থেকে যশোরে আসায় জাগরণী চক্র কার্যালয়ে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান চলাকালে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাকিরুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে পৌঁছার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

হারুন অর রশিদ বলেন, এক দশক আগে পরিবারের সবার মতামত নিয়েই আজু মরণোত্তর দেহদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সে কারণেই জানাজা শেষে দ্রুত তাঁর দেহ মেডিকেল কলেজে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আজাদুল কবির আজু ১৯৫৩ সালের ২৮ আগস্ট যশোর সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

স্বাধীন দেশের স্বপ্নে যোগ দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। দেশমাতৃকাকে মুক্ত করার সেই রণাঙ্গন থেকে রাজাকারদের হাতে ধরা পড়েন তিনি। নির্মম অত্যাচারের পর রাজাকাররা তাকে তুলে দেয় পাকবাহিনীর হাতে। হানাদার বাহিনীর নির্যাতন সয়ে তার ঠাঁই হয় যশোর কারাগারে। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর যশোর মুক্ত হবার পর মুক্তি মেলে তার।

১৯৭৫ সালে আরজু কয়েকজন সমমনা বন্ধুকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করলেন জাগরণী চক্র। যশোর শহরে শুরু করলেন ব্যবহারিক বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র। যার শিক্ষার্থী হলেন সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত জনগোষ্ঠী। সেই শুরু থেকে পথচলার অর্ধশত বছর পার করেছে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন। বর্তমানে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রায় ৮ হাজার কর্মী।

দেশের ৫২ জেলায় প্রায় ১১ লাখ সুবিধাবঞ্চিত নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রবীণ মানুষের সঙ্গে কাজ করছে। দারিদ্র্যমুক্ত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে যশোর থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি এখন দেশের অন্যতম প্রধান বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা।

  • জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন
  • প্রতিষ্ঠাতা
  • #