কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতার প্যারোলে মুক্তি না দেওয়া মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন : আসক

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ ঘন্টা আগে

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে তার মৃত স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী শিশুসন্তানের জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা সত্ত্বেও মুক্তি না দিয়ে কেবল কারাফটকে দেখানো সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। রোববার এক বিবৃতিতে আসক এ কথা জানিয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারপারসন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না। তিনি গণমাধ্যমে এ বিবৃতি পাঠিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং সমান আইনি সুরক্ষার অধিকারী। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ নাগরিককে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার প্রদান করে। ৩৫(৫) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর দণ্ড বা আচরণের শিকার করা যাবে না। একজন বিচারাধীন বন্দী হিসেবে জুয়েল হাসান সাদ্দাম এসব সাংবিধানিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত নন। অথচ তার স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মৃত্যুজনিত চরম মানবিক পরিস্থিতিতে পরিবারের আবেদন থাকা সত্ত্বেও প্যারোলে মুক্তি না দেওয়া এবং জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণের সুযোগ অস্বীকার করা কার্যত তাকে অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণের শিকার করেছে। এটি সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদের সরাসরি ব্যত্যয়।’

আন্তর্জাতিক আইনের উদাহরণ টেনে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক আইনেও প্যারোলের বিষয়ে অধিকার সুরক্ষিত। আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের (আইসিসিপিআর) অনুচ্ছেদ ৭-এ নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ১০(১) এ বলা হয়েছে, স্বাধীনতাবঞ্চিত সকল ব্যক্তির সঙ্গে মানবিকতা ও মর্যাদার সঙ্গে আচরণ করতে হবে। কারাফটকে পাঁচ মিনিটের জন্য মৃত স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মুখ দেখিয়ে একজন শোকাহত বন্দীকে জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত করা, আইসিসিপিআরের উল্লিখিত ধারাসমূহের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কোন আইন, বিধি বা নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে পরিবারের আবেদন থাকা সত্ত্বেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি, তা জানার অধিকার দেশের নাগরিকদের রয়েছে। আইনের শাসন কেবল সিদ্ধান্ত গ্রহণেই সীমাবদ্ধ নয়, সিদ্ধান্তের কারণ প্রকাশ এবং সেই সিদ্ধান্তের জবাবদিহি নিশ্চিত করাও এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ ক্ষেত্রে কারা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নীরবতা, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচার ও বৈষম্যমূলক আচরণের গুরুতর প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

আসকের বিবৃতিতে বলা হয়, এই ঘটনায় যে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে, তা একটি সংবিধানস্বীকৃত, গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারসম্মত রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও জবাবদিহি অপরিহার্য। পাশাপাশি উচ্চ আদালতের স্বপ্রণোদিত পদক্ষেপ গ্রহণেরও সুযোগ রয়েছে।

  • কারাবন্দি
  • ছাত্রলীগ নেতা
  • প্যারোল
  • মুক্তি
  • #