ওসিকে আটকে রেখে এসআইকে কান ধরালো ছাত্র-জনতা

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ দিন আগে

রাজশাহীর পুঠিয়ায় বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে এক পুলিশ সদস্যকে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রেখেছে জনতা। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে এমন একটি ভিডিও ও একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যের নাম জহিরুল ইসলাম। তিনি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বেলপুকুর থানায় এসআই পদে কর্মরত। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এটা বেলপুকুর থানার পুলিশ। কান ধরে দাঁড়িয়েছে, জনগণের কাছে কট।’

রোববার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে রাজশাহীর দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘রাজকীয় পরিবহন’ নামের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরও দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও দুইজন পুরুষ রয়েছেন। তাদের একজন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্ঘটনায় আহত অটোরিকশার আরও কয়েকজন যাত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর বেলপুকুরিয়া ও পুঠিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও সীমানা জটিলতা নিয়ে দুই থানার মধ্যে দীর্ঘ সময় বিতর্ক চলে। উভয় পক্ষই ঘটনাস্থল নিজেদের আওতাভুক্ত নয় দাবি করে লাশের দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায় বলে অভিযোগ ওঠে।

এ সময় পুলিশের দায়িত্বহীনতা এবং ঘাতক বাসটিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগে স্থানীয় জনতা ও শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা বেলপুকুরিয়া থানার ওসিকে ঘটনাস্থলে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। ঘুষ গ্রহণ ও দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ তুলে তাদের আটকে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা ও শিক্ষার্থীরা। এসময় এসআইকে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখেন তারা।

ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করলে কয়েক কিলোমিটার যানজট তৈরি হয়। রাতের দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এসময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে এক পুলিশ সদস্যকে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের মতিহার জোনের উপকমিশনার (ডিসি)সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

আরএমপির মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে একজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একটি গুজব ছড়িয়ে পরে যে, পুলিশ ঘুষ নিয়ে ঘাতক বাসচালককে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। এতে জনগণ ক্ষুদ্ধ হয়ে ওই ঘটনা ঘটায়।

গাজিউর রহমান আরও জানান, ওই বাসচালক দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে একটি পাম্পে বাস রেখে গা ঢাকা দেয়। আইনি কাজে বাধা ও পুলিশকে হেনস্থার ঘটনায় পুলিশ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

  • এসআই
  • কান
  • ছাত্র-জনতা
  • ধরালো
  • #