শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ২ দিন আগে

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম মারা গেছেন। জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঞাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান জানান, সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তিনি মারা যান।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, রেজাউল করিম রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম রাসেল এবং ঝিনাইগাতী থানার ওসি নাজমুল হাসান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়রা জানান, পূর্বঘোষিত ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়। সে অনুযায়ী সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন। এরপর অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল আসেন। এসময় তিনিসহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মঞ্চে বসেন। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক সমনের সারিতে চেয়ার বসতে না পেরে হট্টগোল শুরু করেন। এরপর কথাকাটাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় মঞ্চের সামনে রাখা কয়েক’শ চেয়ার ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০জন আহত হন। একইসাথে বিক্ষুদ্ধ জনতা অনুষ্ঠানস্থলে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। পরে আশপাশের লোকজন আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জামায়াত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদলের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের দলের কমপক্ষে ১৫জন কর্মীসমর্থক আহত হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের দাবি, উগ্রবাদী, জঙ্গি জামাতিরা পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা দেশকে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইগাতীর ইশতেহার অনুষ্ঠান শুরুর প্রাক্কালে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। বর্তমানে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঞা বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ মামলা করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝিনাইগাতীর ইউএনও এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে চেয়ারে বসা নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

  • জামায়াত
  • নিহত
  • বিএনপি
  • শেরপুর
  • সংঘংর্ষ
  • #