চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, চলছে কর্মবিরতি

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ দিন আগে

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।

রোববার (১ ফেব্রয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতির কারণে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে জাহাজ থেকে খোলা পণ্য ও কনটেইনার ওঠা-নামা কার্যত বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া বন্দরে পণ্য ডেলিভারির জন্য বিভিন্ন ধরনের কভার্ড ভ্যান, লরি, ট্রেলার প্রবেশ বন্ধ আছে; বন্দর পরিচালনা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব আরব আমিরাতভিত্তিক অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনি ও রোববার ৮ ঘণ্টা করে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। শনিবারও কর্মবিরতির কারণে বন্দর পরিচালনা কার্যক্রমে অচলাবস্থার তৈরি হয়েছিল।

প্রথমদিনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের নামে কর্মসূচি দেওয়া হলেও সেদিন বিকালে জানানো হয়- তাদের এ কর্মসূচি চলবে ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রম পরিষদ’র নামে।

সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও শ্রমিকদল নেতা হুমায়ুন কবির বলেন, আমাদের কর্মবিরতি দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে। সকাল থেকে বিভিন্ন জেটি ভিজিট করেছি। কোথাও কোনো কাজ করছে না শ্রমিকরা। কোনো জাহাজেও পণ্য বা কনটেইনার ওঠা-নামার কাজ হচ্ছে না। কোনো গাড়ি বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করছে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা সকাল থেকে স্বতস্ফূর্তভাবে এ কর্মসূচি পালন করছে। বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে। পরবর্তীতে আমরা নতুন কর্মসূচি দেব।

চট্টগ্রাম বন্দরের বার্থ অপারেটর ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, আমরা জেটিতে কাজ করার জন্য শ্রমিক বুকিং দিতে পারিনি আজও। পণ্য ওঠানামার কাজ আজকেও হচ্ছে না।

প্রথমদিনের কর্মবিরতির পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারী চারজনকে তাৎক্ষণিক বদলি করে। একদিনে কর্মবিরতিতে রাজস্ব ক্ষতি নিরূপণ করতে ছয় সদস্যের একটি কমিটিও করে তারা।

অন্যদিকে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর ও আশপাশের এলাকায় শনিবার রাত ১২টা থেকে পরবর্তী একমাসের জন্য সবধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল সমাবেশ নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

শনিবার আন্দোলনকারীরা বন্দর এলাকায় মিছিল সমাবেশ করলেও রোববারে কর্মবিরতির মধ্যে তারা এ ধরনের কোনো কর্মসূচি পালন করছে না।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সে কারণে কোনো ধরনের মিছিল সমাবেশ করছি না। শ্রমিক-কর্মচারীরা বন্দরে সকল প্রকার কাজ থেকে বিরত আছেন। কর্মবিরতি শেষে বিকালে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।

  • অচলাবস্থা
  • কর্মবিরতি
  • চট্টগ্রাম
  • বন্দর
  • #