ছবি : গোলাম ফারুক অভি
১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচন হয়েছিল ৬ জুন। তখন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক গোলাম ফারুক অভি কারাগারে। আগের বছর ১৯৮৯ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশেষ ক্ষমতা আইনের নিবর্তনমূলক ধারায় আটকাদেশ দিয়ে তার বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র মামলাসহ আরো বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়। অভি কারাগারে থাকলেও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।
১৯৯০ সালের এপ্রিলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জুনের ১ম সপ্তায় ডাকসু ও হল ছাত্র সংসদের নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জানালে ছাত্রদল কিছুটা অপ্রস্তুত ও সিদ্ধান্তহীন হয়ে পড়ে। কিন্তু অভি এই সম্ভাব্য তফসিলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে মতামত দেন। ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় ও হল ইউনিট কমিটিগুলো তখন বেশিরভাগই অভি-সমর্থিত। হল সংসদের প্যানেলের প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয় কারাগার থেকেই। কিন্তু ডাকসু প্যানেলের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে বিএনপি হাইকমান্ডের সাথে অভির মতবিরোধ দেখা দেয়। তবে প্রায় শেষ মুহূর্তে বিএনপির সিনিয়ার নেতাদের উদ্যোগে এর সমঝোতা হয়। এই নির্বাচনে ছাত্রদল ডাকসুতে পূর্ণ প্যানেলে এবং ১৩টির মধ্যে ১১টি হল ছাত্র সংসদে জয়লাভ করে। বিএনপির হাইকমান্ড কখনো এটা স্বীকার না করলেও এটা ছিল তখন সর্বজন স্বীকৃত যে, এ বিজয় সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র গোলাম ফারুক অভি এবং তার টিমের নির্বাচনী কৌশল, প্রার্থী মনোনয়ন, ও ভিন্নধর্মী প্রচারণার কারণে।
কিন্তু ডাকসু ও হল সংসদে এত বড় বিজয়ের পর থেকে অভি ও বিএনপি হাইকমান্ডের মধ্যেকার দূরত্ব দিনে দিনে আরো বেড়ে যায়। ঐ বছর ১৭ নভেম্বর কারামুক্তির অব্যবহিত পরেই তৎকালীন এরশাদ সরকারের সাথে যোগাযোগের অভিযোগে অভি সহ ছাত্রদলের ১২ জন ছাত্রনেতাকে ছাত্রদল থেকে বহিস্কার করা হয়। এই বহিষ্কারাদেশের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। বৈরী রাজনৈতিক বাস্তবতায় অভি ঐ বছরের ডিসেম্বর মাসে দেশত্যাগ করেন। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের সময়ে তার বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হলেও এসব মামলা থেকে অভি খালাস পান দেশের বাইরে থাকতেই। ব্যাংকক থেকে অভি দেশে ফিরলে তাকেসহ ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন বহিস্কৃত ছাত্রনেতাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের অতিথি কক্ষ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৯৫ সালের ৫ মার্চ উচ্চ আদালতের নির্দেশে অভি মুক্তি পান এবং তৎকালীন সরকারের দায়েরকৃত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায়ও পরবর্তীতে খালাস পান তিনি।
১৯৯৬ সালের ৯ মে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন গোলাম ফারুক অভি। ঐ বছরের ১২ জুন অনুষ্ঠিত ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বরিশাল-২ (উজিরপুর-বাবুগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত হন। অভি ৭ম সংসদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন।
লেখক : প্রবাসী সাংবাদিক