নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারার চুক্তির সঙ্গে জড়িতরা যেন দেশ থেকে বের হতে না পারে : আনু মুহাম্মদ

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ ঘন্টা আগে

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিদেশি কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী গণ্য করে অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, এ অপতৎপরতার দায়ে অভিযুক্তরা যেন দেশ থেকে বের হতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি আয়োজিত বন্দর শ্রমিকদের কর্মবিরতির সংহতি সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ অধ্যাপক  বলেছেন, এ চুক্তিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজ ৩০, ৪০, ৫০ বা ৬০ বছরের জন্য বাঁধা পড়ে যাবে, সে ধরনের চুক্তি করার কোনো অধিকার বা এখতিয়ার একটা অন্তর্বর্তী সরকারের না থাকলেও বর্তমান সরকার জোরজবরদস্তি ও তড়িঘড়ি করে তা করতে যাচ্ছে।

আনু মুহাম্মদ বলেছেন, যারা ক্ষমতায় আসবে, তাদের দায়িত্ব হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার কেন ও কীসের বিনিময়ে জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তিগুলো করছে, তার একটা শ্বেতপত্র প্রকাশ করা এবং এর মধ্যে যারা দায়ী, তাদের বিচারের সম্মুখীন করা।

তিনি বলেন, বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়ার পর নিউমুরিং টার্মিনাল থেকে আয় ও মাশুল কমবে। এই চুক্তি করার জন্য কিছুদিন আগে সব পণ্যের ওপর মাশুল বাড়ানো হয়েছে। ফলে আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি খরচ বাড়বে। এটার ফলে পুরো অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সম্পূর্ণ অস্বচ্ছতা, অযৌক্তিকতা এবং নিয়মনীতিবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করা হচ্ছে। উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর মুখোশ পরিয়ে এই সরকারে ইউনূস সাহেব (প্রধান উপদেষ্টা) প্রকৃতপক্ষে বিদেশি কোম্পানি এবং বিদেশি রাষ্ট্রের লবিস্টদের নিয়োগ করেছেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান বন্দর। দেশের শতকরা ৯০ ভাগ আমদানি-রপ্তানি হয় এই বন্দর দিয়ে। সেই বন্দর যখন একটা বিদেশি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বে যাবে, তখন পুরো বাংলাদেশই জিম্মি হয়ে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের একটা পকেট রাষ্ট্রের কোম্পানির হাতে। এর মানে হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী একটা বিশ্বব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশ একটা বড় ধরনের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়বে।

 

  • আনু মুহাম্মদ
  • ইজারা
  • চুক্তি
  • নিউমুরিং টার্মিনাল
  • #