দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন : রাজনীতিতে ফেরার ছক কষছে আওয়ামী লীগ

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ ঘন্টা আগে

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে ভারতের কলকাতা ও দিল্লিতে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই তারা দল পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের কৌশল নিয়ে বৈঠক ও যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে যান। এর পরপরই আওয়ামী লীগের হাজারো নেতাকর্মী দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। তাদের মধ্যে অন্তত ৬০০ জন কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

গত বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করে এবং দলটিকে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও প্রচারণা থেকে নিষিদ্ধ করে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও দুর্নীতির অভিযোগে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

গত বছরের শেষদিকে একটি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে তিনি এই রায়কে ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন এবং ভারত থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে গোপন অবস্থান থেকে শেখ হাসিনা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে দলীয় বৈঠক ও বাংলাদেশে থাকা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ একাধিক সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে নিয়মিতভাবে কলকাতা থেকে দিল্লিতে ডেকে কৌশলগত বৈঠক করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া হলে ভোটের গণতান্ত্রিক বৈধতা নষ্ট হবে। দলটির সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়া বর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার, যার নেতৃত্বে রয়েছেন নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস, বলছে—এ নির্বাচন গত এক দশকের মধ্যে প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। তবে আওয়ামী লীগ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে, যা তিনি অস্বীকার করেছেন।

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। শেখ হাসিনাকে দণ্ড দেওয়া ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক মান মেনে চলে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আওয়ামী লীগের নেতারা দাবি করছেন, দেশজুড়ে প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় তাদের শত শত কর্মী নিহত বা কারাবন্দী হয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দেশে ফিরলে প্রাণনাশের ঝুঁকি রয়েছে বলেই তারা ভারতে অবস্থান করছেন।

ভারতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হলেও ভারত তা উপেক্ষা করছে। সম্প্রতি দিল্লিতে এক সমাবেশে শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়।

কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা দাবি করেছেন, আসন্ন নির্বাচন ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হবে এবং তাতে জনগণ আবার আওয়ামী লীগের দিকে ফিরবে।

সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় স্বীকার করেন, দলটি কর্তৃত্ববাদী ছিল এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হয়নি। তবে তার দাবি, পরিস্থিতি বদলাবে এবং তাদের নির্বাসন দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

  • আওয়ামী লীগ
  • রাজনীতি
  • #