অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও মব সহিংসতা ও গণগ্রেপ্তার চলছে : এইচআরডব্লিউ

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৫৭ minutes ago

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মব সহিংসতা, গণগ্রেপ্তার ও জামিন না দেওয়ার চর্চা এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। বুধবার এ  প্রতিবেদন প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক এ মানবাধিকার সংস্থাটি।

বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ঘোষিত মানবাধিকার সংস্কার বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হাজারো মানুষকে নির্বিচারে আটক করার অভিযোগও তোলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক সহিংসতা, মব তৎপরতা এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বাইরে থাকা গোষ্ঠীগুলোর সহিংস কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। নারী অধিকার ও এলজিবিটিবিরোধী কট্টরপন্থি গোষ্ঠীর উপস্থিতিও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত গণপিটুনিতে অন্তত ১২৪ জন নিহত হয়েছেন।

এইচআরডব্লিউ জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও নির্বিচার আটকের যে চর্চা ছিল, তা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও অব্যাহত রয়েছে। অনেক মামলায় অজ্ঞাতনামা হিসেবে শত শত মানুষকে আসামি করা হচ্ছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের শত শত নেতা-কর্মী ও সমর্থক হত্যা মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে কারাবন্দী রয়েছেন এবং বিচার ছাড়াই তাদের জামিন নিয়মিতভাবে নাকচ করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ এ অন্তত ৮ হাজার ৬০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আরও অনেকে আটক হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। ঘটনার পর পুলিশ কয়েক শ আওয়ামী লীগ সমর্থককে আটক করে এবং ৮ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে ১০টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, যেগুলোর অধিকাংশই অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে। সরকার অবশ্য গণগ্রেপ্তারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ এর তথ্য উদ্ধৃত করে এইচআরডব্লিউ জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৪ জন নির্যাতনে মারা গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় আহত হয়েছেন প্রায় ৮ হাজার মানুষ এবং নিহত হয়েছেন অন্তত ৮১ জন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধিত ক্ষমতা ব্যবহার করে গত বছরের মে মাসে আওয়ামী লীগকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়, যার ফলে দলটির সভা-সমাবেশ, প্রকাশনা ও অনলাইন কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা, লেখক ও সাহিত্যিকদের বিরুদ্ধে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ সংক্রান্ত মামলার ঘটনাও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়।

এইচআরডব্লিউর মতে, সাইবার নিরাপত্তা আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর অন্যায্য বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ তৈরি করছে। কিছু ধারা বাতিল হলেও আইনটি এখনও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

প্রতিবেদনে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতের আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন। তবে এসব ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রগতি সীমিত।

এইচআরডব্লিউ আরও জানায়, দীর্ঘ শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও রাজনৈতিক ঐকমত্যের অভাবে খুব কম সংস্কারই বাস্তবায়িত হয়েছে। নারী নির্যাতন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, রোহিঙ্গা সংকট ও বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ায় মানবিক পরিস্থিতির অবনতির কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

  • অন্তর্বর্তী সরকার
  • এইচআরডব্লিউ
  • গণগ্রেপ্তার
  • মব
  • সহিংসতা
  • #