গাজীপুরের টঙ্গীর হোন্ডা রোড এলাকায় গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে অন্তত ১৮ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের ঢাকায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার টঙ্গী সেনাকল্যাণ গার্মেন্টের সামনে একটি ক্লাবঘরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীতে বিএনপির সমাবেশে অংশ নিতে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় একটি ক্লাবের ভেতরে জমা রাখা গ্যাসভর্তি ওই বেলুনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ক্লাবের ভেতরে থাকা বিএনপির ১৮ জন কর্মী ও সমর্থক দগ্ধ হন।
গাজীপুর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনির সমর্থক মো. রবিউল ইসলাম জানান, বিকেলে টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল করিম রনির সমাবেশ ছিল। সেই সমাবেশে যাওয়ার জন্য তাদের নেতা সুমন সরকারের সব লোক জড়ো হন সেনাকল্যাণ মার্কেটে এলাকায়।
আগে থেকেই গ্যাস বেলুন প্রস্তুত করে রাখা ছিল সেখানকার একটি ক্লাবঘরে। বেলুনগুলো নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল সমাবেশস্থলে। রওনা হওয়ার আগ মুহূর্তে ক্লাবঘরে রাখা সেই গ্যাস বেলুন বের করতে যান কর্মী-সমর্থকরা। এসময় তাড়াহুড়ায় সেই গ্যাস বেলুন ফেটে যায় এবং মুহূর্তেই আগুন ধরে পুরো রুমে যারা ছিল তাদের হাত, পা ও মুখ ঝলসে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল, সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধরা জানান, ক্লাবঘরে রাখা গ্যাস বেলুন সম্পর্কে তারা আগে থেকে জানতেন না। ধারণা করেছিলেন সেগুলো ডেকোরেশনের জন্য ফুলিয়ে রাখা সাধারণ বেলুন। তবে সেগুলোর ভেতর গ্যাস ভর্তি এটা না জানার কারণে তারা কয়েকজন তাড়াহুড়া করে বেলুন নেওয়ার সময় ফেটে যায় এবং এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক নাফিয়া শারমিন জানান, ১৫-১৬ জনকে দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাদের প্রায় সবার অবস্থায় গুরুতর। পরে তাদের ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।
বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, দগ্ধ অন্তত ১৮ জন হাসপাতালে এসেছেন। তাদের সবার হাতে, মুখে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ঝলসে গেছে। তাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের সবার বয়স ২০ বছরের নিচে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন খান জানান, বিএনপির অফিসে গ্যাস বেলুন রাখা হয়েছিল। কোনো কারণবশত সেই বেলুন বিস্ফোরণ হয়। এ সময় বেলুনের পাশে থাকা কমপক্ষে ১৮ জন দগ্ধ হয়েছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।