প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টাদের কার সম্পদের পরিমাণ কত?

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ ঘন্টা আগে

অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব পালন করা প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টার পদমর্যাদা অনুযায়ী ২৭ জনের মধ্যে ২৫ জনের সম্পদ বিবরণী মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত তালিকায় উপদেষ্টাদের সঙ্গে তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের সম্পদের বিবরণীও প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী তাদের সম্পদের বিবরণী দেননি।

এ বিষয়ে মন্তব্যের ঘরে বলা হয়েছে, আলী রীয়াজ ১৫ নভেম্বর থেকে উপদেষ্টার পদমর্যাদায় যোগ দিয়েছেন এবং লুৎফে সিদ্দিকী সরকারি সুবিধাদি গ্রহণ করেন না।

প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ ১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার স্ত্রী ড. আফরোজী ইউনূসের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ হয়েছে।  মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ বিবরণী প্রকাশ করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বিবরণীতে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুনে তার মোট আর্থিক সম্পদের পরিমাণ ১৩ কোটি ১৮ লক্ষ ৭১ হাজার ৪৩৩ টাকা। ২০২৫ এর জুনে তার আর্থিক সম্পদের পরিমাণ ১৪ কোটি ৭৬ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪০১ টাকা।

২৪ এর জুনে প্রধান উপদেষ্টার অ-আর্থিক বা নন-ফাইনান্সিয়াল সম্পদের পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা। ২৫ এর জুনেও তার পরিমাণ একই ছিল।

২৪ এর জুনের আগে বাংলাদেশের বাইরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পদ ছিল ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৪০ টাকার। ২৫ এর জুনে যা বেড়ে ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৪ টাকা হয়।

২৪ এর জুনে প্রধান উপদেষ্টার মোট পরিসম্পদ দেখানো হয়েছে ১৪ কোটি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকা। পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকা।

প্রধান উপদেষ্টা কোনো ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় নেই বলে সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার স্ত্রী ড. আফরোজী ইউনূসের সম্পদ বিবরণীতে ২০২৪ সালের জুনে তার মোট আর্থিক সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৯৫ লাখ ৪১ হাজার ৬৭৯ টাকা। ২০২৫ এর জুনে তার আর্থিক সম্পদের পরিমাণ ৪ লাখ ৫১ হাজার ৮৬০ টাকা।

২৪ এর জুনে ডা. আফরোজীর অ-আর্থিক বা নন-ফাইনান্সিয়াল সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯৫ টাকা। ২৫ এর জুনেও তার পরিমাণ একই দেখানো হয় ১ কোটি ২৩ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকা।

২৪ এর জুনে প্রধান উপদেষ্টার স্ত্রীর মোট পরিসম্পদ দেখানো হয়েছে ২ কোটি ১১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৪ টাকা। ২৫ সালে যা পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬০ টাকা।

২৪ এর জুনে ড. আফরোজার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় দেখানো হয়েছে ১৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। একবছর পর তা ১৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। সম্পদ বিবরণীতে বিদেশে প্রধান উপদেষ্টার স্ত্রী কোনো সম্পদ নেই বলে জানানো হয়।

বিবরণী অনুযায়ী, বর্তমান ও সাবেক উপদেষ্টাদের মধ্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের পরিসম্পদের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। তার প্রায় ৯১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার পরিসম্পদ রয়েছে। ২০২৪ সালে যা ছিল ৯১ কোটি ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৮৪২ টাকার। দায় নেই।

সর্বনিম্ন সম্পদের মালিক সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তার পরিসম্পদের পরিমাণ প্রায় পৌনে ১৩ লাখ টাকা। ২০২৪ সালে যা ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার পরিসম্পদ। তার কোনো দায় নেই।

সাবেক হওয়া আরেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার মোট পরিসম্পদ ২০২৫ সালের জুন শেষে ছিল ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৭ টাকা। ২০২৪ সালের সম্পদের তথ্য দেননি। তার দায় ২৮ হাজার ৬৬৯ টাকা।

আয়কর আইন অনুযায়ী, একজন করদাতার মালিকানাধীন স্থাবর-অস্থাবর, আর্থিক ও মূলধনি সম্পত্তির সমষ্টি হল পরিসম্পদ।

প্রকাশিত বিবরণীতে তাদের আর্থিক, আর্থিক বর্হিভূত সম্পদ (নন-ফাইন্যান্সিয়াল), বিদেশে থাকা পরিসম্পদ এবং ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায়ের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

কার কত সম্পদ

উপদেষ্টাদের মধ্যে সম্পদের মালিকানার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। তিনি এককভাবে সম্পদের পরিমাণ প্রকাশ করেননি। স্ত্রীর সম্পদসহ একসঙ্গে মোট পরিসম্পদের তথ্য দিয়েছেন।

এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জুন শেষে এ দম্পত্তির মোট সম্পদ ছিল ৪৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৫০ ডলার (বিনিময় হার ১২০ টাকা ধরে তা ৫৫ কোটি ৬৩ লাখ ২ হাজার টাকার সমপরিমাণ) এবং ২২ লাখ টাকা। ২০২৪ সালেও তাদের একই পরিমাণ ডলার থাকলেও টাকার পরিমাণ ছিল ২০ লাখ টাকা। তাদের ১২ লাখ ডলারের দায় রয়েছে; ২০২৪ সালে যা ছিল ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

এরপর সম্পদ বেশি পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের। ২০২৫ সালের জুন শেষে তার পরিসম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৮৩ টাকা। ২০২৪ সালে যা ছিল ১৫ কোটি ৯ লাখ ১৩ হাজার ১০২ টাকা। তার কোনো ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় নেই।

তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এক বছরে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বেড়ে ২০২৫ সালের জুনে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৮০৬ টাকা। ২০২৪ সালের ৩০ জুন মুহাম্মদ ইউনূসের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৭ টাকা।

অন্যদের মধ্যে অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদের ২০২৫ সালের জুনে মোট পরিসম্পদের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ১৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৪ সালের একই মাস শেষে যা ছিল ৭ কোটি ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৭১৮ টাকা। সেসময় তার বক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় ছিল ৮৪ হাজার টাকা। তবে বর্তমানে তার কোনো দায় নেই।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মোট পরিসম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৬০ লাখ ৯৮ হাজার ২৩২ টাকা। ২০২৪ সালে এর পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪৮ লাখ ১০ হাজার ৪৩৩ টাকা। তার কোনো ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত দায় নেই।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের মোট পরিসম্পদ ২ কোটি ৯৩ লাখ ১১ হাজার ১৫৮ টাকার। ২০২৪ সালে যা ছিল ২ কোটি ৮৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬০৯ টাকা। তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় নেই।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমের মোট পরিসম্পদ ২ কোটি ৭৭ লাখ ২০ হাজার ৭৭৪ টাকার। ২০২৪ সালে যা ছিল ২ কোটি ৬১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৭৯ টাকার। তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় নেই।

শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের মোট পরিসম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৫২ লাখ ৯৯ হাজার ২৬৯ টাকা। ২০২৪ সালে যা ছিল ৯৮ লাখ ২২ হাজার ৭ টাকার। তার ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার দায় রয়েছে।

খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের পরিসম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৮৮ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৪ টাকা। ২০২৪ সালে যা ছিল ৩ কোটি ৩৭ লাখ ১৫ হাজার ৪২০ টাকা। তার কোনো দায় নেই।

শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরারের মোট পরিসম্পদ ৭ কোটি ৫৭ লাখ ৪৩ হাজার ৪২২ টাকার। ২০২৪ সালে যার পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ২ লাখ ১ হাজার ১৬৮ টাকা। ২০২৪ সালে তার ৯ লাখ ৫০ হাজার ১৮৭ টাকার দায় ছিল; ২০২৫ সালের জুনে তার দায় ২ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮৭ টাকা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবিরের মোট পরিসম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ৭২ লাখ ৫৫ হাজার ৩৩৭ টাকা। ২০২৪ সালে যা ছিল ৬ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার ৩৯৭ টাকা। তার কোনো দায় নেই।

বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের মোট পরিসম্পদ ১ কোটি ১২ লাখ ৭২ হাজার ৯২৪ টাকার। ২০২৪ সালে এর পরিমাণ ছিল ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫ টাকা। ২০২৪ সালে তার দায় ছিল ১০ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫২ টাকা; বর্তমানে তা ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৮৮৭ টাকা।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজমের পরিসম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ২ লাখ ৮ হাজার ৯২৯ টাকা। ২০২৪ সালে যা ছিল ১ কোটি ৭৬ লাখ ৬৫ হাজার ১৬৪ টাকা। সেসময় তার ১২ লাখ টাকার দায় থাকলেও বর্তমানে কোনো দায় নেই।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের ২০২৪ সালে পরিসম্পদের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ২৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫১৭ টাকা। বর্তমানে যা ৩ কোটি ৫১ লাখ ১২ হাজার ৮৫৪ টাকা। তার কোনো দায় নেই।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের মোট পরিসম্পদ ৬ কোটি ২৪ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৩ টাকার। ২০২৪ সালে যা ছিল ৬ কোটি ২০ লাখ ৭৬ হাজার ৮২৬ টাকা। তার কোনো ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত দায় নেই।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন পোদ্দারের মোট পরিসম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি ৮৩ লাখ ১০ হাজার ৫৩৫ টাকা। ২০২৪ সালে যা ছিল ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮৭ টাকা। তার কোনো দায় নেই।

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের মোট পরিসম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২ লাখ ২৫ হাজার ৬০ টাকা। ২০২৪ সালে যা ছিল ৮১ লাখ ২৮ হাজার ৯২৯ টাকা। তার কোনো দায় নেই।

সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদের মোট পরিসম্পদ ১০ কোটি ৯৩ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৯ টাকার। ২০২৪ সালে যা ছিল ১০ কোটি ৬৫ লাখ ৯ হাজার ২৭৬ টাকার। তার বর্তমান দায় ১ কোটি ৯১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২৯ টাকা। ২০২৪ সালে ছিল ২ কোটি ৮৬ লাখ ৪৯ হাজার ২০২ টাকা।

ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনের মোট পরিসম্পদ ১ কোটি ১৩ লাখ ৯২ হাজার ১০২ টাকার। ২০২৪ সালে ছিল ৮৮ লাখ ১৫ হাজার ৭৭৪ টাকার। তার দায় নেই।

পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমার পরিসম্পদ ১ কোটি ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯৬ টাকার। ২০২৪ সালে যা ছিল ১ কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪১ টাকার। দায় নেই।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিসম্পদ ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকার। ২০২৪ সালে ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকার। দায় নেই।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আব্দুল হাফিজের মোট পরিসম্পদের পরিমাণ ১৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩৯ টাকা। ২০২৪ সালে যা ছিল ১২ কোটি ৭২ লাখ ৮৭ হাজার ৭১১ টাকা। দায় নেই।

  • উপদেষ্টা
  • পরিমাণ
  • প্রধান উপদেষ্টা
  • সম্পদ
  • #