ফুলপুরে বিএনপির সাবেক এমপির গাড়িতে হামলার অভিযোগ

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ দিন আগে

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আবুল বাশার আকন্দের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও চালককে জখমের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধানের শীষের পক্ষে কাজ না করার অভিযোগে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফুলপুর উপজেলার বালিয়া মোড় এলাকায় হামলার এ ঘটনা ঘটে।

ফুলপুর-তারাকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-২ আসনে এবার বিএনপির দলীয় প্রার্থী ছিলেন উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। তিনি পরাজিত হন ১১ দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর কাছে।

এ আসনটিতে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন আবুল বাশার আকন্দ। তিনি ফুলপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ছাড়াও বর্তমানে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি।
স্থানীয় বিএনপি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে উপজেলার বালিয়া মোড় এলাকায় তুলার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে চারটার পর সেখানে যান আবুল বাশার আকন্দ।

এ সময় তার গাড়িবহরে একটি দল হামলা চালিয়ে গাড়ির চারপাশের কাচ ভাঙচুর করে। এ সময় চালক মো. আরমান আহত হন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে আবুল বাশারকে উদ্ধার করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে হালুয়াঘাট-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাড়ক অবরোধের চেষ্টা করা হয়। এ সময় বিএনপির একটি পক্ষের সঙ্গে বাশার আকন্দের পক্ষের লোকজনের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পরে পুলিশ দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়।

স্থানীয় বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা জানান, এবারের নির্বাচনে আবুল বাশার আকন্দ বিএনপির দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু তা না পাওয়ায় নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে এলাকায় কোনো ভূমিকা রাখেননি। নিজেও কাজ করেননি, তার পক্ষের নেতাকর্মীদের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজও করতে দেননি। ধানের শীষের প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে আবুল বাশারকে ঘিরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনা নিয়ে দুই দিন ধরে ফেসবুকেও লেখালেখি হচ্ছিল।

আবুল বাশার বলেন, এলাকায় একটি তুলার গোগাউন আগুনে লাগলে সেখানে যাওয়ার পর যুবদল নেতা ওয়াহেদুজ্জামান মিঠুন ও বিএনপি নেতা এমরান হাসান পল্লবসহ বেশ কয়েকজন মিলে আমার ওপর হামলা করে। এতে আমার গাড়িচালক মো. আরমান আহত হয়েছে, গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য ওয়াহেদুজ্জামান মিঠুন বলেন, ‘আমি ৩০টি মামলার আসমি। আমরা রাজনীতি করি দলের জন্য। তিনি (সাবেক এমপি আবুল বাশার আকন্দ) মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেননি বরং রিকশার পক্ষে (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) কাজ করেছেন। সে কারণে দলের লোকজন ক্ষুব্ধ ছিল। তাছাড়া ঘটনার সময় আমি ছিলাম না। পূর্বশত্রুতার জের ধরে আমার নাম ফাঁসানো হয়েছে।’

ফুলপুর থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ‘এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ দায়ের হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • গাড়ি
  • ফুলপুর
  • বিএনপি
  • সাবেক এমপি
  • হামলা
  • #