দাম বেড়েছে মুরগি মসলা চিনি ফল ও সুগন্ধি চালের

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ ঘন্টা আগে

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি, মসলা, সুগন্ধি চাল ও চিনির দাম। অন্যদিকে, রমজানের শুরু থেকেই ফলের দাম ছিল বাড়তি। এখনও দাম বেড়েই চলেছে। খেজুর, আপেল, কমলাসহ সব ফলের দামই ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

গত সপ্তাহে কেজি প্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার এখন ২৩০ টাকায় ঠেকেছে। অর্থাৎ সাত দিনের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা। একই সময়ে বাজারে বিভিন্ন মসলার দামও বাড়তে শুরু করেছে। মুরগি ও মসলার বাজারের এই অস্থিরতা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের ওপর নতুন করে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

হঠাৎ এই দাম বৃদ্ধিতে বাজারে আসা ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে। মিরপুরে মুরগি কিনতে আসা আব্দুস সালাম জানান, আগে ১৮০ টাকায় যে মুরগি কিনেছি, এখন সেটা ২৩০ টাকা দিয়ে নিতে হচ্ছে। এতে সংসারের খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর, নিউমার্কেট ও লালবাগ কাঁচাবাজারসহ রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লারের পাশাপাশি অন্যান্য জাতের মুরগির দামও চড়া। কক মুরগি কেজি প্রতি প্রায় ৩৫০ টাকা, লেয়ার ৩৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং চাহিদা বেড়ে যাওয়াই এই দাম বৃদ্ধির মূল কারণ। বিশেষ করে আসন্ন রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে মুরগির চাহিদা বাড়ায় বাজারে এর বড় প্রভাব পড়েছে।

নিউমার্কেটের এক মুরগি বিক্রেতা জানান, রমজান সামনে রেখে অনেক খামারি আগেই মুরগি বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে বর্তমানে সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি বাজারে দামের ওপর এর প্রভাব পড়েছে।

এদিকে মাছের বাজারেও দামের কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বাজারভেদে চাষের পাঙাশ মাছ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং রুই ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। কিছু বড় আকারের নদীর মাছের দাম আরও বেশি।

বাজারে চিনি ও সুগন্ধি চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ১০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সুগন্ধি চালের দামও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি মসলার বাজারও চড়া হতে শুরু করেছে। কেজি প্রতি ২০০ টাকা বেড়ে আলুবোখারা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার টাকায়। এছাড়া জিরা, কিসমিস ও বিভিন্ন ধরনের বাদামের দাম কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। অন্যদিকে স্থির রয়েছে পাম অয়েল তেলের দাম, যা বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়।

লালবাগের এক বিক্রেতা জানান, তেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পরে দাম বাড়ানো হতে পারে। না হলে যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে তেলের দাম বাড়ানো হতে পারে।

এদিকে কমেছে কিছু পণ্যের দাম। প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা কমে বর্তমানে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রোজার প্রথম সপ্তাহে লেবু ও শসার চাহিদা বেশি থাকায় এবং সালাদের প্রধান উপকরণ হওয়ায় শসার চাহিদাও বেড়ে যায়। ফলে রোজার শুরুতেই এ দুই পণ্যের দাম বেড়ে যায়। তবে চলতি সপ্তাহে লেবুর দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৭০ টাকায়। রোজার শুরুতে প্রতি কেজি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও চলতি সপ্তাহে দাম ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে। তবে রমজানে চাহিদা কম থাকায় সবজির বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।

অন্যদিকে, রমজানের শুরু থেকেই ফলের দাম ছিল বাড়তি। এখনও দাম দাম বেড়েই চলেছে। খেজুর, আপেল, কমলাসহ সব ফলের দামই ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। শুক্রবার রাজধানীর ফলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কমলার কেজি ৩২০ টাকা। মাল্টা ৩০০ টাকা, সাদা আঙুর ৪০০ টাকা, আপেল ৩৬০ টাকা, নাশপাতি ৪০০ টাকা, আনার ৪৮০, কালো আঙুর ৫৫০, পেঁয়ারা ১২০, পেঁপে ১৫০ টাকা, বড়ই ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে মেখজুল খেজুর ১ হাজার ৬০০ টাকা, মরিয়ম ৯০০ টাকা, বিভিন্ন ধরনের তিউনিসিয়ান খেজুর ৬৫০ করে বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা দাম খেজুরের দাম বেড়েছে। কারণ জানতে চাইলে রায়সাহেব বাজারের খেজুর বিক্রেতারা জানান, বিভিন্ন কারণে দাম বাড়ে, আমরা বাড়াই না। যারা পাইকারি বিক্রেতা তারাই বাড়ায় বিভিন্ন কারণে।

কলার বাজারে দেখা গেছে, দেশি কলার ডজন ১২০, সবরি ১৮০, সাগর কলার দাম ডজনপ্রতি ১০০ টাকা। এছাড়া নতুন তরমুজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায় এবং প্রতিপিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা করে।

মিরপুরের কয়েক ফল বিক্রেতা জানান, তার দোকানে আপেলের মধ্যে ফুজি আপেল প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং অস্ট্রেলিয়ান আপেল ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিদেশি গ্রিন আপেলের কেজি ৪০০ টাকা। বিদেশি ফলের মধ্যে এখানে কমলার দাম ও আকৃতিভেদে ভিন্নতা দেখা গেছে। ছোট কমলা ৩০০ টাকা, বড় কমলা ৩৫০ টাকা এবং দেশি কমলা ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

  • চিনি
  • দাম
  • ফল
  • মরগি
  • মসলা
  • সুগন্ধি চাল
  • #