জাতীয় সংসদে হট্টগোল ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ভাষণ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিয়ে ওয়াকআউট করেছেন। বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানালে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংসদীয় সূত্র জানায়, অধিবেশনের একপর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য মঞ্চে আহ্বান জানান। স্পিকারের এই আহ্বানের পরপরই জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
বিরোধী দলের সদস্যদের প্রদর্শিত প্ল্যাকার্ডগুলোতে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যতা বন্ধ কর’সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী লেখা তুলে ধরা হয়। সংসদ কক্ষের ভেতরে উচ্চস্বরে হইচই ও হট্টগোল শুরু হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বারবার সবাইকে শান্ত থাকার ও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদ অধিবেশনে প্রবেশ করেন এবং স্পিকারের আসনের পাশে নির্ধারিত আসনে বসেন।
বিরোধী দলীয় সদস্যদের হট্টগোল ও স্লোগানের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ শুরু করেন। ভাষণ চলাকালীন বিরোধী দল জামায়াতের সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদি সরকারের পতন ঘটেছে।’ তিনি জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদদের স্মরণে নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরেন। এ সময় কৃষি, অর্থনীতির ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপে নেবে বলে আশা করেন রাষ্ট্রপতি।