ঘরে ঝুলে ছিল ‘অসুস্থ’ মায়ের মরদেহ, বিছানায় শিশুসন্তানের লাশ

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ ঘন্টা আগে
প্রতীকী ছবি

১৬ মাস আগে ছেলেসন্তান জন্ম দেন মা। সন্তান জন্মের পর থেকে তার মানসিক অসুস্থতা দেখা দেয়। নিজ ঘর থেকে ওই মায়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আর বিছানায় পড়ে ছিল শিশুটির মরদেহ, যাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে রংপুর নগরের সাজাপুরে এ ঘটনা ঘটে। মৃত দুজন হলেন সূচনা ঘোষ (৪০) ও তাঁর শিশুসন্তান জয়দেব ঘোষ।

মৃত সূচনা ঘোষের স্বামী শংকর ঘোষ (৪৫) শারীরিক প্রতিবন্ধী ও মুদিদোকানি। এ দম্পতির দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। মেজো মেয়ে পুষ্পিতা ঘোষ (১২) এবং ১৬ মাসের ছেলে জয়দীপ ঘোষকে নিয়ে তারা থাকতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে জয়দেব তার দাদি গীতা রানীর কাছে ছিল। দুপুরে ঘুম পাড়ানোর কথা বলে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন সূচনা। মেয়ে পুষ্পিতা বাড়ির বাইরে যায়। পরে ঘর থেকে সূচনা ঘোষের ঝুলন্ত লাশ ও বিছানা থেকে শিশু জয়দেবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গীতা রানী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাচ্চাটা হওয়ার কিছুদিন পর থেকে ওর (সূচনা) মাথার সমস্যা। না ওষুধ খাবে, না ঘুমাবে। ওষুধ মুখের মধ্যে নিয়ে জিবের তলে থোয়; কয় খাইছি, কিন্তু খায় না। গোসলও করে না। ওই দিন (শনিবার) বাচ্চাকে আমার থেকে নিয়ে গেল। কয়, “বাচ্চা দেনম ঘুম পাড়াব।” পরে শুনি, ঘরের দরজা লাগানো। আমার মেয়ের ছেলে দরজা খুলি দেখে, বাচ্চাটা বিছানায় মরি আছে, বউও গলায় দড়ি দিছে।’

রোববার দুপুরে সাজাপুরে গিয়ে কথা হয় সূচনার বাবা নিখিল ঘোষের সঙ্গে। মেয়ের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মারা যাওয়ার পরে চারটার দিকে আমরা সংবাদ পাইছি। এইটুকু শুনছি, আর দেখলাম এই রকম। মেয়েটা আমার পাগল, মাথার সমস্যা।’

সূচনার স্বামী শংকর ঘোষ জানান, তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হয়নি।

রংপুর মহানগর পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ময়নাতদন্ত করে মা-ছেলের লাশ পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তাজহাট থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

সূত্র : প্রথম আলো

  • মা
  • রংপুর
  • লাশ
  • শিশুসন্তান
  • #