বইমেলায় ১৭ দিনে বিক্রি প্রায় ১৭ কোটি টাকা, কমেছে বিক্রি ও বই প্রকাশ

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ ঘন্টা আগে
ফাইল ছবি

অমর একুশে বইমেলা শেষদিন আজ রোববার। বইমেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামনে এসেছে এবারের বই বিক্রির চিত্র। তবে এবারের বইমেলায় কমেছে বিক্রি ও বই প্রকাশ। আয়োজকদের হিসাব বলছে, এবারের মেলায় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত বিক্রি প্রায় ১৭ কোটি টাকা। গতকাল  বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মো. সেলিম রেজা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেন।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এবারের বইমেলায় কমেছে বিক্রি ও বই প্রকাশ । গত বছর মাসব্যাপী বইমেলায় অংশ নেওয়া অর্ধেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বিক্রির তথ্য দিয়ে মেলা কমিটি জানিয়েছিল, ২০ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি মিলিয়ে আনুমানিক ৪০ কোটি টাকার বই বিক্রির তথ্য এক বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরেছিল মেলা পরিচালনা কমিটি।

গত বছর বইমেলায় মোট ৭২১টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১৮টি প্রতিষ্ঠান মিডিয়া ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক ছিল। বাকি ৭০৩টি ছিল প্রকাশনা-প্রতিষ্ঠান।

সেই হিসাবে এবারের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কমেছে। ২৮ দিনের মেলা এবার ১৮ দিন হওয়ায় মেলার দিনও কমেছে।

এর আগে ২০২৪ সালে মেলায় বিক্রি হয়েছিল ৬০ কোটি টাকার বই। ২০২৩ সালে বিক্রি হয়েছিল ৪৭ কোটি টাকার বই। এবার বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানকে ১০৬৮ ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের মেলায় অংশগ্রহণকারী ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৭০টি ছিল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ২৬৯টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মেলার ১৭ দিনে তাদের মোট বই বিক্রি হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। এই হিসাবের গড় ধরে ধারণা করা হয়েছে, সব মিলিয়ে ৫৭০টি প্রতিষ্ঠানের বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৭ কোটি টাকা।

তথ্য বিশ্লেষণে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়ও সামনে এসেছে। দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে বেশি ইউনিটের স্টল পাওয়া বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম ইউনিটের স্টল পাওয়া ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি বেশি হয়েছে। অর্থাৎ স্টলের আকার নয়, পাঠকের আগ্রহই নির্ধারণ করেছে বিক্রির পরিমাণ।

এদিকে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমিও নিজস্ব স্টল থেকে বই বিক্রির হিসাব প্রকাশ করেছে। ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১৭ দিনে বাংলা একাডেমি বিক্রি করেছে ১৭ লাখ ৪ হাজার ৬২৯ টাকার বই। মেলায় বাংলা একাডেমিসহ সব প্রতিষ্ঠানের বই ২৫ শতাংশ কমিশনে বিক্রি হয়েছে।

এবারের মেলায় নতুন বইয়ের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। তথ্যকেন্দ্রের হিসাবে ১৪ মার্চ পর্যন্ত জমা পড়েছে ১ হাজার ৭৭১টি নতুন বই। তবে সব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান তথ্যকেন্দ্রে বই জমা না দেওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিবন্ধন অনুযায়ী ২৫২টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে এবারের মেলায় ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানকে ১০৬৮ ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। শিশুদের জন্য ৬৩টি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় ১১১ ইউনিটের স্টল, আর লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ছিল ৯০টি লিটল ম্যাগ স্টল।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারের মেলায় স্টল ভাড়া মওকুফ করা হয়। যারা আগে স্টল ভাড়ার টাকা জমা দিয়েছিলেন, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানানো হয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। বিভিন্ন আয়োজন ও আলোচনাকে এই প্রতিপাদ্যের আলোকে সাজানো হয়েছিল। শিশুদের জন্য পৃথক চত্বর, শিশুপ্রহর, পাপেট শো ও বায়োস্কোপের আয়োজন ছিল বিশেষ আকর্ষণ।

মেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকা জুড়ে তিন শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়। বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাব, আনসার, বিএনসিসি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছে। মেলা প্রাঙ্গণকে পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত রাখার উদ্যোগ এবং নিয়মিত ধুলা নিবারণ ও পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থাও প্রশংসিত হয়েছে।

সমাপনী প্রতিবেদনে সদস্য সচিব বলেন, বইমেলা কেবল বই বিক্রির বাজার নয়; এটি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। সেই অর্থে বইমেলা আজ সত্যিই এক ‘মিলনমেলা’ প্রাণের বইমেলা। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সবার অংশগ্রহণে এবারের অমর একুশে বইমেলা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজানের কারণে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলা শুরু হয় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে। এবারে মেলার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।

 

  • প্রকাশ
  • বই
  • বইমেলা
  • বিক্রি
  • #