বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ ৯টি মানবাধিকার সংগঠন। সোমবার পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এ আহ্বান জানিয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বার্তায় জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বড় জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর গঠিত হয়। ২০২৪ সালে ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুতের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ইচ্ছামতো আটক এবং সাংবাদিক, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার মতো ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, তারেক রহমানকে পরিবর্তন আনার জন্য একটি শক্তিশালী ম্যান্ডেট দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে সেসব মানুষের পক্ষ থেকে যারা একটি স্বৈরাচারী সরকারকে সরাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিল।
তিনি বলেন, এ প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে, যাতে তারা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে এবং আইনের শাসন বজায় রাখতে পারে। একই সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকার রক্ষায় সরকারের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন।
চিঠিতে কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইচ্ছামতো বা বে-আইনি আটক বন্ধ করা, অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, বিতর্কিত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করা এবং জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এছাড়া সংগঠনগুলো বলেছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ ও আইনগত সংস্কারের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট সুপারিশও দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিএনপি মানবাধিকার রক্ষায় নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আর্টিকেল নাইনটিন, সিভিকাস, এফআইডিএইচ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, রবার্ট অ্যান্ড এথেল কেনেডি হিউম্যান রাইটস সেন্টার ও টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।