কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে এক কলেজছাত্রের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায়, গফরগাঁও উপজেলা-এর পাগলা থানার খুরশিদ মহল সেতুর নিচে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ভৈরব নৌ পুলিশ।
নিহত তরিকুল ইসলাম ইমন (১৭) হোসেনপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঢেকিয়া মীরপাড়ার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় বিএম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ী মাসুদ মীরের ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, সোমবার (১৬ মার্চ) রাত ১১টার পর থেকে ইমন নিখোঁজ ছিলেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে নদীতে ভাসমান মরদেহের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি ইমনের বলে শনাক্ত করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে সেতুর নিচে নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নৌ পুলিশের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করে।
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই নৌ পুলিশকে অবহিত করা হয় এবং তাদের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ভৈরব নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. কামরুল হাসান জানান, সুরতহালে গলা ও মাথার পেছনে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতের আলামত পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।