প্রতীকী ছবি
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নির্যাতনের শিকার ১০ বছরের শিশুটির অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। শিশুটি রাজশাহী মেডিকেলে আইসিইউতে রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় ভেড়ামারা থানায় একটি মামলা হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর বিশ্বাস জানান, শিশুটিকে গত ১৬ মার্চ সকাল ১০টায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। বুধবার সকালে তাকে আইসিইউ থেকে বের করে ওসিসিতে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাকে আবারও আইসিউতে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, শিশুটি ট্রমার মধ্যে আছে। কথা বলতে পারছে না। মুখে কিছু খাচ্ছে না। শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন। তার শরীরে নির্যাতনের অনেক চিহ্ন রয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেলের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. মোস্তফা কামাল বলেন, শিশুটির শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় আবারও আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। তার অবস্থার উন্নতি হয়নি।
শিশুটির বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ে এখনও আইসিইউ আছে, সেখানে আমাদের যেতে দিচ্ছে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মেয়ের শারীরিক অবস্থা আগের মতোই সংকটাপন্ন। আজ কথা বলা একদম বন্ধ করেছে।
তিনি জানান, অভিযুক্তের পক্ষে চারজন আজ তার সঙ্গে দেখা করেন, তারা শিশুটির চিকিৎসার খরচ বহন করার প্রস্তাব দেন। তবে তিনি সেটি নাকচ করে অপরাধীর বিচার দাবি করেন।
এর আগে গত সোমবার কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মাদ্রাসা পড়ুয়া ওই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সাইদুর রহমানকে আটক করা হয়। শিশুটির পরিবার ধর্ষণের বিষয়টি জানতে পেরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।
পুলিশ জানায়, দৌলতপুরের বাসিন্দা শিশুটি ৮ মাস আগে ওই মহিলা মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। সে সহপাঠীদের সঙ্গে সেখানে থাকত। গত রোববার মাদ্রাসা ছুটি হওয়ায় শিশুটির মা তাকে বাড়ি নিয়ে যেতে আসেন। এ সময় অভিযুক্ত সুপারের স্ত্রী তাকে জানান, শিশুটির জ্বর এসেছে। পরে শিশুটিকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে ডাক্তাররা তাকে রাজশাহী মেডিকেলে স্থানান্তর করেন।
শিশুটির বাবা বলেন, আমি মূর্খ মানুষ, মেয়েকে কোরআন শেখানোর জন্য মাদ্রাসায় দিয়েছি। কিন্তু এমন সর্বনাশ কেন করল? এরা পশুর চেয়েও জঘন্য।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে ভেড়ামারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা হলেন সাইদুল রহমান (৫০), শামিমা খাতুন (৪২) ও রিশা খাতুন (২০)।
সূত্র : সমকাল