জেট ফুয়েলের (উড়োজাহাজের জ্বালানি) দাম লিটারপ্রতি ৮৯ দশমিক ৫৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক রুটে প্রতি লিটার দশমিক ৭৩৮৪ সেন্ট থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৩২ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে, জেট ফুয়েলের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)।
মঙ্গলবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নতুন মূল্যহার ঘোষণা করা হয়, যা একই দিন রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করতে দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
এর আগে ৮ মার্চ জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়। অন্যদিকে ১৮ মার্চ রাতে বিইআরসির পক্ষ থেকে দাম বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি করে তা এক ঘণ্টার মধ্যে আবার স্থগিত করা হয়।
২০২৫ সালের মে মাসে প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। তখন বলা হয়েছিল, প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলে বাংলাদেশে বাড়বে, কমে গেলে কমবে। এর আগপর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সময়ে সময়ে দাম নির্ধারণ করে এসেছে। তবে এই প্রথম এক মাসে দুই দফায় দাম বাড়াল বিইআরসি।
এদিকে, জেট ফুয়েলের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)। সংগঠনটি বলছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জেট ফুয়েলের মূল্য প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি করে দেশের বিমান চলাচল খাতকে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এওএবি জানায়, বিইআরসির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট এ-১ জ্বালানির মূল্য প্রতি লিটার ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জ্বালানির মূল্য ০.৭৩৮৫ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১.৩২১৬ ডলারে পৌঁছেছে।
সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও তেলের দাম নিম্নমুখী রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে, যা পূর্বনির্ধারিত দামে কেনা হয়েছে। এ অবস্থায় ভবিষ্যৎ মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কাকে ভিত্তি করে এত বড় পরিসরে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো যৌক্তিক নয়।
তিনি আরও বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিক। যেখানে ভারত ও নেপালে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে, সেখানে পাকিস্তানে প্রায় ২৪ শতাংশ এবং মালদ্বীপে প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই হার প্রায় ৮০ শতাংশ, যা বিমান সংস্থাগুলোর জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করবে।
এওএবির মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হলে দেশের এয়ারলাইনসগুলো মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়বে এবং এর প্রভাব সরাসরি যাত্রীদের ওপর পড়বে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ রুটে ভাড়া বাড়ার পাশাপাশি কিছু গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে সংগঠনটি সরকারের কাছে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে দেশের এভিয়েশন খাতের স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা জরুরি।