প্রতীকী ছবি
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ইমরান হোসেন (১৬) নামের এক কিশোর চালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সৈয়দপুর (ঈশানকোনা) এলাকার বাদশাহ মিয়ার গ্যারেজে এ পিটানোর ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ইমরান হোসেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। গত ৮ থেকে ৯ বছর ধরে তারা সপরিবারে সৈয়দপুর গ্রামে হাসন চেয়ারম্যানের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে বাদশাহ মিয়ার গ্যারেজে অটোরিকশা চার্জ দিয়ে ৫০ টাকা কম দিতে চাইলে গ্যারেজ মালিক বাদশাহ ও তার সহযোগী জাকির উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা রিকশার জিআই পাইপ, মুগুর ও সুপারি গাছের কঞ্চি দিয়ে ইমরানকে বেধড়ক মারধর করেন। প্রচণ্ড আঘাতে ইমরান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ অভিযুক্ত জাকিরকে (৩৫) তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। তবে মূল অভিযুক্ত বাদশাহ মিয়া এখনো পলাতক রয়েছেন। জাকির সৈয়দপুর (ঈশানকোনা) এলাকার মৃত আব্দুর রূপের পুত্র।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. লাকু মিয়া বলেন, ঘটনার সময় আমি বার বার বারণ করলেও কিশোরটিকে তারা নির্মমভাবে আঘাত করে। হামলাকারীদের উপর্যুপরি আঘাতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
জগন্নাথপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে জাকির নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিকে গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।