এবারের ঈদযাত্রায় দেশের সড়ক, রেল ও নৌ-পথে ৩৯৪ জন নিহত এবং ১২৮৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। গত বছরের তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ৭ শতাংশ এবং আহত হওয়ার সংখ্যা প্রায় ৯৫ শতাংশ বেড়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। সংস্থাটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাসচিব বলেন, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫ দিনে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত এবং ১০৪৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হয়েছেন। নৌ-পথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যমতে, সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১২৮৮ জন আহত হয়েছেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনা ৮.৯৫ শতাংশ এবং প্রাণহানি ৮.২৬ শতাংশ বেড়েছে। তবে সবচেয়ে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে আহতের সংখ্যা, যা প্রায় ২১.০৫ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬ শতাংশ।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার নতুন হলেও পরিবহন সেক্টরে সেই পুরানো ‘মাফিয়া’ নেতাদের অনুসারী বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাব রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের মতো এবারও ঈদ ব্যবস্থাপনা সভায় যাত্রী প্রতিনিধি রাখা হয়নি। মালিকদের একচেটিয়া সুবিধা দিতেই এমন অপকৌশল নেওয়া হয়েছে, যার ফলে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না।
দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসাবে তিনি বলেন, সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল; জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন, রোড মার্কিং ও সড়ক বাতি না থাকা; পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য, যার ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ ট্রাক বা ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত করেছে; অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন; এবং সড়ক পথে চাঁদাবাজি এবং চালকদের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা।
একইসাথে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতি কিছু জরুরি সুপারিশ পেশ করেছে: সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং ভাড়া আদায়ে স্মার্ট পদ্ধতি চালু করা, মহাসড়কে পর্যাপ্ত সড়ক বাতির ব্যবস্থা করা, পরিবহন সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও মালিক সমিতির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা, এবং চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।