ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এর অঞ্চল-৬ এ উত্তরা এলাকায় বাস্তবায়িত একটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) আইন লঙ্ঘন করে পছন্দের একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৩১ কোটি ৪৩ লাখ টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অঞ্চল-৬ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশীদ। বিষয়টি নিয়ে নগর ভবনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জোন-৬ এর উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরে “ইমপ্রুভমেন্ট অফ রোড অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন অফ আরসিসি পাইপ স্থাপন, ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণ এবং উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত শর্ত লঙ্ঘন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসএম রহমান ইন্টারন্যাশনাল (আইডি নম্বর-১০৯৫২২৯) চলমান কাজের তথ্য গোপন করে দরপত্রে অংশগ্রহণ করলেও তাদেরকে ৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার কাজ দেওয়া হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, বিশেষ করে নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশীদ জানতেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া দরপত্রে সিমিলার ওয়ার্ক ৩ কোটি টাকা এবং বার্ষিক টার্নওভার ৩৫ কোটি টাকা থাকার শর্ত ভঙ্গ করে সাবরিনা এন্টারপ্রাইজ এবং রাইফ এন্টারপ্রাইজ (আইডি নম্বর-১১১০৭৩৭) যৌথভাবে ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার কাজ পায়। একইভাবে সঞ্জীব এন্টারপ্রাইজ (আইডি নম্বর-১১৪৮৯৫০) শর্ত পূরণ না করেও ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, মোল্লা এন্টারপ্রাইজ (আইডি নম্বর-১১০৬৯৩২) সিমিলার ওয়ার্ক ৬ কোটি এবং টার্নওভার ৬০ কোটি টাকার কোনো শর্ত পূরণ না করেও ৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকার কাজ পেয়ে যায়। একইভাবে টার্নওভার ও টেন্ডার ক্যাপাসিটির তথ্য গোপন করে আইজা এন্টারপ্রাইজ এবং এমএস লরিন এন্টারপ্রাইজ (আইডি নম্বর-১১৪৫৩৩৯) যৌথভাবে দরপত্রে অংশ নিয়ে ৯ কোটি ৯ লাখ টাকার কাজ বাগিয়ে নেয়।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) অনুযায়ী, পর্যাপ্ত টেন্ডার ক্যাপাসিটি এবং সিমিলার ওয়ার্কের অভিজ্ঞতা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য ঘোষণা করার সুযোগ নেই। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, একাধিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে চলমান কাজের তথ্য গোপন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ না করেও তাদেরকে টেন্ডারে যোগ্য বিবেচনা করা হয়েছে।
বিভিন্ন ঠিকাদার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ও লবিং ব্যবহার করে এসব টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী শুধু এই প্রকল্প নয়, অন্যান্য অফিসিয়াল কার্যক্রমেও অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশীদ বলেন, বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি অবগত নন। সংশ্লিষ্ট আইডি সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করতে হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে অনুরোধ জানান।
এ ঘটনায় ডিএনসিসির ভেতরে ও বাইরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র : ঢাকা নিউজ ২৪