মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবি জানিয়ে ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার আইনজীবী দলের চিঠি

:
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে
ছবি : সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার ও মৃত্যুদণ্ডাদেশকে বে-আইনি উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

শেখ হাসিনার পক্ষে লন্ডনভিত্তিক ল’ ফার্ম কিংসলে ন্যাপলির পাঠানো চিঠিতে এ দাবি জানানো হয়। গত সোমবার (৩০ মার্চ) ই-মেইলের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে এ চিঠি পাঠানো হয়। এতে শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়াকে ‘অন্যায্য ও অবৈধ’ দাবি করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিত অবস্থায় বিচার করে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি এবং তার ন্যায্য বিচার ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।

আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, বিচারটি এমন এক শত্রুভাবাপন্ন রাজনৈতিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগ ও এর সমর্থকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা এবং আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকা ব্যক্তিদের দিয়ে বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। এতে বিচারিক স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এমনকি একজন বিচারক আগেই দোষী সাব্যস্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রধান প্রসিকিউটরের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থানকে পক্ষপাতমূলক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া প্রসিকিউশন টিমে দুর্নীতির অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনাকে অভিযোগ, প্রমাণ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এটি নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৪ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।

চিঠিতে বলা হয়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ফ্রিডম হাউস এবং ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ল’ ফার্মটি বলেছে, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারও প্রশ্নবিদ্ধ। এটি মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধ বিচারের জন্য গঠিত হলেও পরবর্তীতে ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, যা বে-আইনি।

সবশেষে তারা দাবি করেছেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় বাতিল করতে হবে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পুনর্বিচার করতে হবে এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

জুলাই আন্দোলন দমনে এক হাজার ৪০০ জনকে হত্যায় উসকানি, প্ররোচনা ও নির্দেশ দেওয়ার চার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে গত বছরের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

  • আইনজীবী
  • ট্রাইব্যুনাল
  • মৃত্যুদণ্ড
  • শেখ হাসিনা
  • #