হবিগঞ্জের মাধবপুরে ২ লাখ লিটার জ্বালানি তেলবাহী ট্রেনের ৬টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) রাতের এই দুর্ঘটনার পর প্রায় ২০ ঘণ্টা পার হলেও সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। দুর্ঘটনায় ট্রেনটির প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, বগি থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল সংগ্রহে স্থানীয়দের মাঝে রীতিমতো লুটের হিড়িক পড়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, বুধবার রাত ৯টার দিকে মাধবপুর উপজেলার মনতলা এলাকায় তেলবাহী ট্রেনটির ৬টি কন্টেইনার লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। এতে রেললাইন ও নিকটবর্তী একটি ব্রিজের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ভোরে আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। রেলওয়ের প্রকৌশল ও উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত বগি সরানো এবং লাইন মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে ঢাকা বিভাগের রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত গতি, লাইনজনিত ত্রুটি কিংবা অন্য কোনো কারণ—সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মনতলা স্টেশনের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা মহসিন উদ্দিন বলেন, তেলবাহী ট্রেন সাধারণত কম গতিতে চলে। তবে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি তুলনামূলক বেশি গতিতে চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে চাকা স্লিপ করে লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
এদিকে বুধবার রাত থেকেই দুর্ঘটনাস্থল থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল সংগ্রহে স্থানীয়দের ভিড় বাড়তে থাকে। বৃহস্পতিবার দিনেও নারী-পুরুষ ও শিশু নির্বিশেষে কলস, বালতি, জগ—যে যা পারছেন তা দিয়েই তেল লুটে নিচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবির হবিগঞ্জ ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, বিজিবির উদ্ধারকারী দল নিজস্ব উদ্যোগে ড্রাম ও জারিকেন সংগ্রহ করে প্রায় এক হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করে সংরক্ষণ করেছে। এ উদ্যোগের ফলে সরকারি সম্পদের অপচয় রোধের পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থলে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখাও সম্ভব হয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রভাবে সিলেট-চট্টগ্রাম ও সিলেট-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস এবং ঢাকাগামী উপবন ও কালনী এক্সপ্রেসের যাত্রা সিলেট থেকেই বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের যাত্রাও বাতিল করা হয়েছে। উদ্ধার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিডিউল স্বাভাবিক হওয়া কঠিন বলে জানানো হয়েছে।
সূত্র : দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড