বর্তমান সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা গতকাল সোমবার মাঝপথে মুলতবি করা হয়েছে। একনেকের কার্যতালিকায় ১৯টি প্রকল্প থাকলেও তালিকার ৮ম প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলাকালেই সভা মুলতবি করা হয় এবং প্রকল্পগুলো নিয়ে আগামী একনেকে আলোচনা হবে বলে জানানো হয়।
একনেক সভাসূত্রে জানা গেছে, তালিকার প্রথম সাতটি প্রকল্পের মধ্যে তিনটি সংশোধিত প্রকল্প ও দুইটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া তালিকার এক নম্বর ও চার নম্বরে থাকা করতোয়া নদীর ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প ও অংশীদারিত্বমূলক পল্লী উন্নয়ন ৪র্থ পর্যায় (পিআরডিবি-৪) প্রকল্প দুটি অনুমোদন না দিয়ে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
সোমবার প্রথমে পরিকল্পনা কমিশনে একনেক সভা হওয়ার কথা থাকলেও পরে একনেক সভা সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় ৫টি অনুমোদিত প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ৪৮৩কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৩৯০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ৯২.০৬ কোটি টাকা।
একনেকে অনুমোদন পাওয়া পাঁচটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, ৩৬৮ কোটি টাকা ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২; চর ডেভেলপমেন্ট এন্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-৪, প্রকল্পটিতে ৩.৪৮ কোটি টাকা ব্যয় কমিয়ে সংশোধন করা হয়েছে। ১১১৮ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন (কম্পোনেন্ট-২), এবং দেশের ৮টি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ইমেজিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প সংশোধন করা হয়েছে।
চতুর্থবারের মতো মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে ৫৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ের আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প ও ১৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প।
একনেকে তালিকায় ছিল কিন্তু আলোচনা হয়নি, এমন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে– গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ সচিবালয়ে ২১ তলাবিশিষ্ট নতুন অফিস ভবন নির্মাণ; স্থানীয় সরকার বিভাগের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন; চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসিক নিবাস নির্মাণ; ঢাকা শহরের জরুরি পানি সরবরাহ; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাভার সোনানিবাসে সৈনিকদের আবাসন সংকট নিরসনে ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ; সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বৈরাগীপুর (বরিশাল)-টুমচর-বাউফল (পটুয়াখালী) জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প; বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়কের বরিশাল (চরকাউয়া) হতে ভোলা (ইলিশা ফেরীঘাট) হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত সড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প; বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষ্মীপাশা-দুমকী জেলা মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙ্গামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণ প্রকল্প; সীমান্ত সড়ক (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) নির্মাণ প্রকল্প-২য় পর্যায় এবং ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ প্রকল্প।
এদিকে, একনেক তালিকার বাইরে যে দুটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে সেগুলো হলো- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া ‘নগরবাসীর জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প; ১ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ এবং চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ১৭০টি নগর স্বাস্থ্যনীড় স্থাপন করা হবে। আর এনবিআরের ‘কাস্টমস আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন (প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধন)” শীর্ষক একটি প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
এছাড়া, একনেক সভাকে অবহিতের জন্য পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদিত ৩৩টি প্রকল্প উপস্থাপন করার কথা ছিল, যেগুলো ইতোমধ্যে পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন।
পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা জানান, এটি প্রথম একনেক হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী অনেককিছু জানার ও বোঝার চেষ্টা করেন। এছাড়া শুধু করতোয়া নদী উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে প্রায় দুই ঘন্টা আলোচনা হয়। তিনি প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও না জেনে কোনো প্রকল্প অনুমোদন করেননি। পরে আরেকটি জরুরি মিটিং থাকায় আজকের মতো সভা মুলতবি করা হয়।