নারী শিক্ষককে নিয়ে ‘বুলিং’, জাকসুর ৩ সদস্যের অপসারণ দাবি

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধাকে নিয়ে ‘সাইবার বুলিং ও মানহানিকর’ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাকসুর তিন সদস্যের বিরুদ্ধে। বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ চেয়ে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক কামরুল আহসানের কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন।

এতে জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহসান লাবিব, কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতি ও আবু তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়ামের অপসারণ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্মারকলিপিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জাকসুর অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপিতে বলেন, ১১ মার্চ থেকে আহসান লাবিব নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শিক্ষক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধার বিরুদ্ধে ফেইসবুকে ধারাবাহিকভাবে ‘মিথ্যাচার’ ও ‘অপপ্রচার’ চালিয়ে আসছেন; যা যাচাইবিহীন, ভিত্তিহীন এবং বিকৃতভাবে উপস্থাপিত।

রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধার বিস্তারিত বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্যের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বেছে নিয়ে বিকৃতভাবে আহসান লাবিব বারংবার প্রচার করে যাচ্ছেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লাবিব পুরো টকশোতে বলা কথা কেটে শর্টস প্রচার করে সাইবার স্পেসে ‘বুলিং’, ‘স্লাটশেমিং’ ও ‘মানহানিকে’ সরাসরি উসকে দিচ্ছেন।

এর সঙ্গে আরো যুক্ত আছেন মোহাম্মদ আলী চিশতী এবং আবু তৌহিদ মো. সিয়াম। তারা ‘জাবির সকল সংবাদ’, ‘একুশে সংবাদ ডটকম’ নামক অনলাইন পত্রিকা, ‘জাবিয়ান সুশীল সমাজ’, JU Updates নামের পেইজগুলোতে লাগাতার একইভাবে ‘মিথ্যা তথ্য, কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিজনক বক্তব্য’ প্রচার করে যাচ্ছেন বলে স্মারকলিপিতে বলা হয়।

শিক্ষার্থীরা কতগুলো দাবি তুলে ধরেন; তার মধ্যে আছে- প্রচারিত সব মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার করতে হবে, জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিবকে মিথ্যাচার, সাইবার বুলিং, মানহানি ও নারী হেনস্তার দায় নিয়ে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, জাকসু কর্তৃপক্ষকে এই সাইবার হেনস্তার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে, অভিযুক্তদের পদ থেকে অপসারণ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নাম ব্যবহার করে যে ধরনের এবং যতগুলো পেইজ আছে তাদের অ্যাডমিনদের পোস্টের মিথ্যাচারের জন্য দায়বদ্ধ করতে হবে এবং প্রশাসনের সরাসরি নজরদারি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় এ ধরনের চর্চা ভয়াবহ একাডেমিক বিপর্যয়ের আভাস দিচ্ছে বলে মনে করেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা। তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে এ ধরনের চর্চা ব্যক্তিকেন্দ্রিক হিসেবে দেখা ভীষণ ভুল হবে। এটি প্রক্রিয়াগত অবক্ষয়। এখানে প্রশাসনিক অদক্ষতাও রয়েছে। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ শিক্ষিতরা বসবাস করে, সেখানে এমন অযৌক্তিক, কূৎসিত কর্মকাণ্ড এক ভয়াবহ বার্তা দেয়। আজকে রাজনৈতিক বয়ান বন্ধ করে দেওয়া হলে, আগামীকালকে তা একাডেমিক কিংবা ব্যক্তিগত পর্যায়ে বয়ান বন্ধ করার দিকে ধাবিত হবে। আমি প্রশাসনকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছি, বাকিটা তারা দেখবেন।

  • অপসারণ
  • জাকসু
  • দাবি
  • নারী শিক্ষক
  • বুলিং
  • সদস্য
  • #